নতুন করে আবার খবরের শিরোনামে নেত্রকোনার ১১ বছর বয়সী এক শিশুর অন্তঃসত্ত্বার ঘটনা। সেই শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাটি অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদিরও। কারণ, ঘটনার শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সেই মন্তব্য ঘিরে তাকে নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সালমান মুক্তাদির সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, শিশুটিকে মাদ্রাসাশিক্ষক গর্ভবতী করেছেন- এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তিনিসহ অনেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও ডিএনএ-সংক্রান্ত তথ্যের বরাতে তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি হয়ত প্রকৃত অপরাধী নন এবং শিশুটির পরিবারের অন্য একজনকে নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। পরে নিজের পোস্টে আরও একটি বক্তব্য যোগ করে সালমান লেখেন, কিছু সূত্র বিষয়টিকে গুজব বলেও দাবি করছে এবং তখনও কোনো নিশ্চিত নাম, নিশ্চিত ডিএনএ প্রতিবেদন বা স্পষ্ট তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি।
এবার ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএর মিল পাওয়ার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালমানের আগের মন্তব্য নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অনেকে ব্যঙ্গ করে তারও ডিএনএ পরীক্ষা করার কথা বলছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সালমান মুক্তাদীরের কোনো নতুন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার নথি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান। এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতের নির্দেশে গত ১৭ মে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। অন্যদিকে, শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ১২ মে আদালতের নির্দেশে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই শিশুটি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে গত ২৯ জুলাই নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নীতিমালা শিগগিরই: তথ্য উপদেষ্টা
সরকারের গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বাঁশখালীতে ইয়াবাসহ আটক ২
রাষ্ট্রপতির সাথে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ