ইসরায়েলি হামলা বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চায় ফিলিস্তিন

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

জাতিসংঘের বিভিন্ন স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিন। খবর তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি। 

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরাঞ্চলে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর মালিকানাধীন কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখল এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বে অভিযান চালানোর পর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসে তার আইনগত ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করা এবং পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়ায় জাতিসংঘের কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসরায়েলের হামলা বন্ধে বাধ্যতামূলক প্রস্তাব গ্রহণ করা।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি জানায়, উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রী বেন-গভিরের নেতৃত্বে চালানো অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য ছিল কালান্দিয়ায় ইউএনআরডব্লিউএর স্থাপনাগুলো ধ্বংসের পথ তৈরি করা। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য দায়িত্ব পালনকারী এসব প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সুরক্ষা দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমে, জাতিসংঘের সদর দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা ‘আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার গুরুতর লঙ্ঘন’ এবং এটি একটি ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ তৈরি করেছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এসব হামলাকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণ, তাদের প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় অধিকারকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের ধারাবাহিক নীতির অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যা’ অব্যাহত থাকা এবং ফিলিস্তিনের শহর, গ্রাম ও শরণার্থীশিবিরগুলোতে হামলা বাড়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত ইউএনআরডব্লিউএর কালান্দিয়া শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখল করে।

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ২৮টি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি পরিদর্শন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার এক দিন পর কালান্দিয়ায় ইউএনআরডব্লিউএর কেন্দ্রটি খালি করে দেওয়া হয়।

পরিদর্শনের সময় কূটনীতিকরা কালান্দিয়া শরণার্থীশিবির, ইউএনআরডব্লিউএর বিভিন্ন স্থাপনা, কালান্দিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র, কালান্দিয়া বালিকা বিদ্যালয় এবং ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিবিরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন।

এ সময় কূটনীতিকদের শিবিরটির অবনতিশীল মানবিক ও সেবাব্যবস্থার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবও তুলে ধরা হয়।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ইউএনআরডব্লিউএর কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কর্মীদের স্থাপনা থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন।

এর আগে ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএর সদর দপ্তরও গুঁড়িয়ে দেয়। সংস্থাটির কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেছে দেশটি।

২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ইসরায়েল ও পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে একটি আইন অনুমোদন করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় সংস্থাটির কয়েকজন কর্মী জড়িত ছিলেন—ইসরায়েল এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আইনটি অনুমোদন করে।

ইসরায়েলি সরকারের ওই নিষেধাজ্ঞা ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি কার্যকর হয়। এর আগেই ইউএনআরডব্লিউএর কর্মীরা পূর্ব জেরুজালেম ছেড়ে গিয়েছিলেন।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি বাহিনী পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর সদর দপ্তরে অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি দখল করে এবং ভেতরের বিভিন্ন অবকাঠামো ভেঙে ফেলে।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২৫ লাখ শরণার্থীর জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত