ক্ষমতার শীর্ষে একাকী জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম

মাত্র ১০ মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনকে, বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে। এমনকি রাতে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমিয়েও কীভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটিও গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন তিনি।

তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, ক্ষমতার শীর্ষে জীবন কখনো কখনো বেশ একাকী হয়ে উঠতে পারে। খবর দ্য টেলিগ্রাফ্রে। 

দীর্ঘ সময় সরকারি বাসভবনে কাজ করার একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তাকাইচি জানান, সেখানে তিনি কোনো ভূতের দেখা পাননি। তবে একদিন একটি তেলাপোকা দেখেছিলেন।

পরে তার কর্মীরা বিষয়টি জানতে পেরে তেলাপোকাটি সরিয়ে দেন। এতে তিনি স্বস্তি পেলেও একই সঙ্গে ‘একটু একা, কিংবা হয়তো বিষণ্ন’ বোধ করেছিলেন বলে জানান।

তার ‘অত্যন্ত ভালো বন্ধু’ ট্রাম্পের মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাকাইচি। সরকারি বাসভবন নিয়ে একাধিক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সরকারি বাসভবন নিয়ে লিখেছি, তাই যেসব প্রশ্ন প্রায়ই পাই, সেগুলোরও উত্তর দিচ্ছি।’

এরপর তিনি লিখেছেন, ‘আপনি কি ইতোমধ্যে সরকারি বাসভবনে দেখা যায় বলে কথিত ভূতগুলোর দেখা পেয়েছেন?’

জবাবে তাকাইচি বলেন, তিনি কখনো কোনো ভূত দেখেননি। তবে সম্প্রতি পর্যন্ত তেলাপোকা দেখলেই তিনিই চিৎকার করতেন।

শৈশব থেকেই জাপানি কমিক সিরিজ ‘ফিনিক্স’-এর ভক্ত তাকাইচি। বারবার পড়া ওই কমিকসে পুনর্জন্মের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে—‘জীবন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এবং রূপ বদলায়’—যা ছোটবেলাতেই তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে জানান তিনি।

তাকাইচি বলেন, সম্ভবত সেই কারণেই বড় হওয়ার পরও তেলাপোকাসহ কোনো পোকামাকড় মারতে তার মন সায় দেয় না।

সরকারি বাসভবনের সেই তেলাপোকাটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মনে হয়েছিল, ‘হয়তো এই জীবনটিও সেই দীর্ঘ পুনর্জন্মের চক্রের অংশ।’ তাই কিছুক্ষণ তিনি অপেক্ষা করেছিলেন, আশা করেছিলেন তেলাপোকাটি নিজে থেকেই চলে যাবে।

কিন্তু বিষয়টি সচিবদের জানাতেই তারা হতবাক হয়ে যান। একজন সচিব দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘এটি অপরিষ্কার। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এরপর শুরু হয় ‘অপারেশন কমব্যাট’।

তাকাইচি জানান, এর পর থেকে আর তেলাপোকার দেখা মেলেনি। তবে তার অনুভূতি ছিল মিশ্র—‘আমি স্বস্তি পেয়েছিলাম, কিন্তু একই সঙ্গে একটু একা, কিংবা হয়তো মন খারাপও হয়েছিল।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ধারাবাহিক পোস্টে তাকাইচি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চেয়ে তিনি সরকারি বাসভবন থেকেই কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে সরকারি বাসভবনের কর্মীদের ওপর দায়িত্বের চাপও কমে।

এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। এতে বিশেষ পুলিশসহ প্রয়োজনীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।’

সপ্তাহান্তেও কাজ করা এবং গভীর রাত পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য পরিচিত তাকাইচি। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায়ই রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

গত জুলাইয়ে এক্সে তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়মিত শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর পর অবশেষে ‘অনেক দিন পর প্রথমবারের মতো পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত