চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু, লাখ টাকায় রফাদফা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কলেজ বাজারের সাউথ চট্টগ্রাম হসপিটালে চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নবজাতকের পরিবারের সঙ্গে এক লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করেছে বলে জানা যায়।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ডা. ফারজানা আক্তার বিউটির মাধ্যমে গর্ভবতী নিফা আক্তারকে সাউথ চট্টগ্রাম হসপিটালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর মা সুস্থ ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে কিছুক্ষণ পর নবজাতকটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করলে তাকে বেড থেকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির কিছুটা ইনফেকশন হয়েছে বলে জানান। এরপর শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করা হয়। তবে ইনজেকশন পুশের পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে বারবার জানানো হয়। এভাবে রাত ৩টা থেকে ভোর হয়ে গেলেও শিশুটির পরিচর্যার জন্য কোনো নার্স বা চিকিৎসক আসেননি। তাদের বারবার ডাকলেও তারা বিরক্ত প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর বিষয়টি মীমাংসার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নবজাতকের পরিবারের এক লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে নবজাতকের বাবা নাঈম উদ্দিন জানান, আমরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলে ডাক্তার ঠিকমতো সাড়া দেননি। রাতে এবং সকালে ডাকলেও ডাক্তার আসেননি। তাদের অবহেলার কারণেই আমার সন্তান মারা গেছে। আমার স্ত্রী এখনো সাউথ চট্টগ্রাম হসপিটালে ভর্তি রয়েছেন। 

সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রায় ৮০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। চিকিৎসা ও হাসপাতালের বিল বাবদ টাকা কেটে রেখে আমার বড় ভাই ইদ্রিসকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনো ভয় পাচ্ছি। আমার স্ত্রী যেহেতু ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাই তার সঙ্গে আবার কোনো ধরনের সমস্যা হয় কি না, সে আশঙ্কায় আছি।’ 
 
সাউথ চট্টগ্রাম হসপিটালের ম্যানেজার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়েছে, এমন অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। যারা লেনদেন করেছে, তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবে। নবজাতক মারা গেছে, এটি সত্য।’

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন কার্যালয় আমাদের ডাকিয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পায়খানা করার কারণে নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তবে বিষয়টি নিয়ে অনেকে তালবাহানা করছেন। 

কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন, ‘সাউথ চট্টগ্রাম হসপিটালে নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, জন্মের পর থেকেই নবজাতকটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এক লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেনি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, নবজাতকের স্বজনরা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্বজনরা যদি টাকা দিয়ে বিষয়টি সমঝোতা করে ফেলে সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত