প্রধানমন্ত্রী বললেন

‘সংখ্যালঘু’ ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন নিজেদের বাংলাদেশি মনে করি 

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ এএম

দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন আমরা নিজেদের বাংলাদেশি মনে করি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে কেউ কেউ নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক  মাধ্যমের আশ্রয় নিয়ে মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিদ্বেষ যেন সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।’ তিনি বলেন, “একটি রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে। এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। আজকের অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু। সুতরাং বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু এসব পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়।” আসুন ‘সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু নয়, সবাই নিজেদের বাংলাদেশি মনে করি। রাষ্ট্র ও সমাজে দল-মত, ধর্ম ও বর্ণের পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ-বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়। সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নাগরিক হিসেবে এই দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার ও বিএনপি বিশ্বাস করে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এবং ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সব নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে এবং নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সেই লক্ষ্য পূরণে বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যে রাষ্ট্র তার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অন্যদিকে নাগরিকরা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সব নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন। এভাবেই রাষ্ট্র, সরকার ও নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সবার কাক্সিক্ষত কল্যাণরাষ্ট্র বা কল্যাণ বাংলাদেশ।’ রাষ্ট্র ও সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও কালবেলা পত্রিকার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ এবং বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু প্রমুখ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত