বরাবরের মতোই সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য সপ্তাহখানেকের বেশি খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে ভোজ্যতেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু সরকার বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর পরও বাজারে এই সরবরাহ সংকট কাটেনি। এখনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঘাটতি দেখা গেছে। এই সুযোগে দোকানিকে আবার পুরনো দামের তেলই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ভোজ্যতেল সরবরাহকারীদের সঙ্গে সভা করে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেন। যদিও ব্যবসায়ীরা চেয়েছিলেন লিটারে ১০ টাকা। এরপর বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান গণমাধ্যমকে জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।’
কিন্তু সেদিনই বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এক লিটারের বোতলজাত তেলের দাম ৫ টাকা, ৫ লিটারের বোতলের দাম ২৫ টাকা এবং এক লিটার খোলা সয়াবিনের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সরবরাহকারীরা খোলা সয়াবিন তেলের দামও বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা, কারওয়ানবাজার, শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানেই এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। তবে দুই ও ৫ লিটারের বোতল পাওয়া গেছে অধিকাংশ দোকানে। গত বুধবার তেলের নতুন দাম ঘোষণার পরও বাজারে সরবরাহ বাড়েনি। দোকানিরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই সরবরাহকারীরা তেল দিচ্ছেন না। কয়েক দফা অর্ডার দিয়ে অল্প পরিমাণ তেল যা দেওয়া হচ্ছে তাতেও দোকানির কমিশন একেবারেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম মেরুলের মুদি দোকানি আব্দুল হাকিমের শেলফে ছয় থেকে সাত বোতল রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের তেল দেখা যায়। দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি লিটারের দাম ২১০ টাকা। অথচ বোতলগুলোর গায়ে লেখা ১৯৯ টাকা। বেশি দামের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোম্পানি থেকে বেশি দাম দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে, এজন্য দাম বেশি।’ মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টে বিভিন্ন রোডের ছয় থেকে সাতটি দোকান ঘুরেও কোনো তেল পাওয়া যায়নি। উদয়ন জেনারেল স্টোরের মালিক সামসুল আলম বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরেই বাজারে কোনো সরবরাহ নেই। কোম্পানিগুলোর কাছে অর্ডার দিলেও তারা সয়াবিন তেল দিচ্ছে না।’
একই চিত্র দেখা গেছে, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিভিন্ন মুদি দোকানে। প্রথম লাইনের ৫টি দোকানের দুটিতে অল্প পরিমাণে এক লিটারের তেলের বোতল পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ নেই, নতুন দামের তেল এখনো আসেনি। সেগুনবাগিচা আবাসিক এলাকার মুদি দোকানি মো. তাহের জানান, তেলের অর্ডার দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ২০০ টাকার একটি তেলের বোতলে খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমিয়ে দেড় টাকা করা হয়েছে।’
এদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও স্থিতিশীলতা দেখা গেছে ডিম ও মুরগির বাজারে। প্রতি ডজন ব্রয়লার মুরগির ডিম গত সপ্তাহের মতোই ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি এলাকাভেদে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা আগের সপ্তাহেও একই ছিল। সোনালি মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতোই ৩২০ টাকা থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কিছু কিছু সবজির দাম কমতে দেখা গেছে। লম্বা বেগুণ এখনো ১০০ টাকার নিচে পাওয়া না গেলেও ঝিঙ্গার দাম কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিংগা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, দেশি লাউ ৮০-৯০ টাকা থেকে কমে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ছোট পটল ও ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। মরিচের দামও স্বাভাবিক অবস্থায় নেমে এসেছে। শসার দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম বেশ চড়া।
তবে পেঁয়াজের দাম খানিকটা কমেছে। ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। যদিও পোলাওয়ের চালের দাম কমেনি। এখনো প্রতিকেজি খোলা পোলাওয়ের চাল ২২০ টাকা এবং প্যাকেটের চাল ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।