সৌদির তেলের পাইপলাইন বন্ধ করল হুতিরা

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

ইরাক থেকে হুতিদের চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের একটি প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরালো হয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে শুক্রবার  (১১ সেপ্টেম্বর) সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।

ইরাক স্বীকার করেছে, প্রতিবেশী সৌদি আরবের এই পাইপলাইনে চালানো ড্রোন হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশ থেকে শুরু হয়েছিল। এ ঘটনায় ইরাকের একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।

১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দিয়ে আসছিল। জাহাজ ট্র্যাকিংকারী কোম্পানি ও বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবাহিত হতো।

ঘটনার আগে ওই পাইপলাইনের কাছাকাছি এলাকায় পুড়ে যাওয়া মাটি ও ধোঁয়ার উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ পায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হামলা প্রতিরোধে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকেও সৌদি আরব সমর্থন করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা, স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান-সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশের অপারেশনস কমান্ডারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চল থেকেই ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছিল-এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেছেন, এই হামলা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য হুমকি সৃষ্টি করেছে; পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত