আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান গেমসের পর্দা উঠছে আজ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর ‘এশিয়ান গেমস’-এর ২০তম আসরের আনুষ্ঠানিক পর্দা উঠছে আজ (শনিবার)। জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মহাযজ্ঞ চলবে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ১৯৫১ সালে নয়াদিল্লিতে যে প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ রূপ নিয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ অলিম্পিক মিলনমেলায়।

আসরে এবার অংশ নিচ্ছে ১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলেট, যা অনেক ক্ষেত্রে অলিম্পিককেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে বিশাল এই কর্মযজ্ঞের আয়োজন করতে গিয়ে আয়োজকদের বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ভিলেজের পরিবর্তে কন্টেইনার-স্টাইল হাট, হোটেল ও ক্রুজ শিপে খেলোয়াড়দের আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ওপর গত সপ্তাহে নাগোয়ায় রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং আসন্ন টাইফুনের পূর্বাভাস নাগোয়ার এই আসরকে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। 

তা সত্ত্বেও ৪৫টি দেশের হাজার হাজার অ্যাথলেট ৪৩টি ডিসিপ্লিনের ৪৬৯টি ইভেন্টে পদক জয়ের এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছেন। অলিম্পিক গেমসের টোকিও বা প্যারিস আসরের মতো এখানেও থাকছে তরুণ প্রজন্মকে টানতে ব্রেকড্যান্সিং, ই-স্পোর্টস এবং নতুন ডিসিপ্লিন হিসেবে প্যাডেল ও এমএমএ-এর অভিষেক। 

মহাদেশীয় এই ক্রীড়াযজ্ঞের সামগ্রিক আবহ ছাপিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর এখন লাল-সবুজের দলগুলোর পারফরম্যান্সের দিকে। এবারের আসরে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিতে জাপানে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশের ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ (৯০ জন পুরুষ ও ৯৭ জন নারী)। সেখানে আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন অভিজ্ঞ শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। অনুষ্ঠানটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায়। 

এদিকে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং মাঠের লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিকতা আজ শুরু হলেও, বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের একাংশের অভিযান শুরু হয়ে গেছে এর আগেই। নির্ধারিত সূচির আগেই ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির মতো ডিসিপ্লিনগুলোতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে দল। যদিও হকির প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে পুরুষ দল ৫-০ গোলে হেরে গেছে এবং মেয়েদের ফুটবল দলও টানা দুই ম্যাচ হেরে পিছিয়ে রয়েছে।

নারী ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম ম্যাচ বা কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। তবে জাপানের স্থানীয় মাঠে বৃষ্টির কারণে আউটফিল্ড ভেজা থাকায় এবং একটি বলও গড়ায়নি মাঠে। ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে সরাসরি সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সেখানে আগামীকালের তারা লড়বে ভারতের বিপক্ষে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক প্রত্যাশার সবচেয়ে বড় ভরসা হলো কাবাডি ও ক্রিকেট। এই দুই ডিসিপ্লিনে লাল-সবুজের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ১৯৯০ সালের বেইজিং, ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা ও ২০০২ সালের বুসান এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডি দল তিনবারই রুপার পদক অর্জন করেছিল। পাশাপাশি ১৯৮৬, ১৯৯৮, ২০০৬ ও ২০১৪ সালের আসরগুলোতেও ব্রোঞ্জ জিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করেছিল বাংলাদেশ, যা এবারের আসরেও দলটিকে ঘিরে বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্মরণীয় সব সাফল্য। এই ইভেন্টে মোট ৬টি পদক জিতেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ফাইনালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। একই আসরে নারী ক্রিকেট দলও খেলে রুপার পদক নিজেদের করে নেয়। সেবার মোট তিনটি পদক (একটি স্বর্ণ, একটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ) জিতেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশের পদক জয়ের ইতিহাসে আছে বক্সিং ইভেন্টেও। ৪০ বছর আগে ১৯৮৬ এশিয়ান গেমসে বক্সিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন মোশাররফ হোসেন। সেটিই এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র পদক।

কন্টেইনার হাট বা ক্রুজ শিপের অভিনব আবাসন আর টাইফুনের শঙ্কার মাঝেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটরা। সেখানে অতীতের কাবাডি ও ক্রিকেটের সোনালি সাফল্যের স্মৃতিগুলোকে পুঁজি করে এবারের এশিয়ান গেমসে নতুন ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত