আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের সাক্ষী হলো বুয়েনস আইরেসের 'মনুমেন্তাল' স্টেডিয়াম। বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ শুরুর আগে টসের সময় ঐতিহ্যবাহী সৌজন্য বিনিময়ে মেসির হাতে এক বিশেষ উপহার তুলে দেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সেসি ডি'আলমিডা।
স্পেনীয় ভাষায় কথা বলার আপ্রাণ চেষ্টা করে বেনিনের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মেসির হাতে একটি বিশেষ চিঠি, একটি গোলাপ এবং বেনিনের বিখ্যাত 'অ্যামাজন মনুমেন্ট'-এর একটি ক্ষুদ্র স্মারক অনুকৃৃতি (স্ট্যাচু) তুলে দেন।
বেনিন দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এই ক্ষুদ্র স্মারকটি কিন্তু মেসির নিজের জন্য ছিল না! এটি তৈরি করা হয়েছিল মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুচ্ছোর কথা ভেবে। বেনিনের প্রাচীন 'আগোজি' বা দাহোমি অ্যামাজন নারী যোদ্ধা বাহিনীর স্মারক হিসেবে এই ক্ষুদ্র মূর্তিটি উপহার হিসেবে আন্তোনেলাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়। উপহারটি দেওয়ার সময় ভাবখানা এমন ছিল—আর্জেন্টিনা ফুটবল জগতের ‘রাজা’ মেসিকে আগলে রাখার জন্য এই নারী যোদ্ধার মূর্তিটি তাঁর স্ত্রীর কাছেই সবচেয়ে বেশি মানানসই।
বেনিনের রাজধানী কোটোনু-তে অবস্থিত ৩০ মিটার উঁচু ও ১৫০ টন ওজনের ব্রোঞ্জের নির্মিত ‘অ্যামাজন মনুমেন্ট’ আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভাস্কর্য, যা ১৯ শতকের ঐতিহাসিক নারী সেনাদলের বীরত্ব ও শক্তির প্রতীক। গ্যালারিতে বসে সন্তান ও পরিবারসহ ম্যাচ দেখতে আসা আন্তোনেলা ও মেসির জন্য এই সম্মাননা পুরো আয়োজনে এক অন্যরকম মাত্রা যোগ করে।
টসের মুহূর্তে কেবল ডি'আলমিডাই নন, উপস্থিত ছিলেন বেনিনের মূল অধিনায়ক ও জার্মান ক্লাব অগসবার্গের ফরোয়ার্ড স্টিভ মুনি-ও। বর্তমানে ইনজুরিতে ভুগলেও মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ হতে নিজ উদ্যোগেই বিশ্বসেরা তারকার মুখোমুখি হতে আর্জেন্টিনায় আসেন তিনি। ইতিপূর্বে পিএসজিতে খেলার সময় ফরাসি লিগে মেসির বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল মুনির।
এর আগে ম্যাচ শুরুর মুহূর্তে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীতের আবেগে আপ্লুত হতে দেখা যায় মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনিকে। পাশাপাশি রিভার প্লেট ক্লাবের পক্ষ থেকেও মেসিকে সম্মানসূচক সদস্যপদ প্রদান করা হয়।