সরকার-এনজিওর যৌথ উদ্যোগেই সাশ্রয়ী চোখের চিকিৎসা নিশ্চিত হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সবার জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিত, এমপি।

তিনি বলেন, কাজ করা, শেখা, নিরাপদে চলাফেরা এবং সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্য ভালো দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চোখের যত্ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে দৃষ্টিজনিত অনেক সমস্যা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার সিআইআরডিএপি মিলনায়তনে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথ ইন বাংলাদেশ এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইওএইচ) যৌথ উদ্যোগে ‘লাভ ইয়োর আইজ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী র‍্যালির উদ্বোধন করেন। পরে ড. দুর্গা পি. পাওডিয়াল কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চক্ষুস্বাস্থ্য, সবার জন্য চক্ষুচিকিৎসার সুযোগ এবং চোখের যত্নের সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম. এ. মুহিত বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসঙ্গে কাজ করে সচেতনতা বাড়াতে এবং সবার কাছে সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চোখের চিকিৎসা পৌঁছে দিতে পারলে আরও অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারবেন।

আলোচনা সভার শুরুতে আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও দেশে দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২০ সালের নেশনওয়াইড ব্লাইন্ডনেস সার্ভে অনুযায়ী, ৩০ বছর ও তার বেশি বয়সী ১৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এর প্রভাব শুধু চোখে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনা ও সামাজিক বিকাশে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীলতা, কাজের সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সুযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে মানসম্মত সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সরকার ও এনজিওগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিশা মাহজাবিন বলেন, চশমা হয়তো খুব সাধারণ একটি সমাধান, কিন্তু এর প্রভাব মানুষের জীবনে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে। এটি পড়াশোনা, জীবিকা অর্জন, নিরাপদে চলাফেরা এবং নিজের কাজ নিজে করার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

তিনি বলেন, বিশ্ব দৃষ্টি দিবস চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সবাইকে একত্রিত করে। প্রয়োজনীয় চশমা ও সেবাগুলো যেন সবাই পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যে আরও দ্রুত কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে এ দিবস।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব মো. মহসীন বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের সঙ্গে চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অফথালমোলজি অ্যান্ড হসপিটালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির। তিনি বাংলাদেশে চোখের স্বাস্থ্যসেবা আরও এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএপিবির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কান্ট্রি চেয়ার ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মো. জিন্নু রেইন (নিউটন) এবং ওএসবির প্রেসিডেন্ট ডা. মো. তৌহিদুর রহমান। আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রোগ্রাম হেড ডা. আফসানা হাবিব শিউলি।

প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়। চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং সহজলভ্য ও মানসম্মত চোখের চিকিৎসাকে গুরুত্ব দেওয়াই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) নেতৃত্বে এ বছরও ৮ অক্টোবর বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন আইএনজিও ফোরাম অন আই হেলথের কো-চেয়ার ও দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার এ কে এম বদরুল হক। তিনি বাংলাদেশে সবার জন্য চোখের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ও বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত