নিষিদ্ধ শব্দবাণ

আন্না ফ্রাঙ্কের ডায়েরি

‘নিষিদ্ধ শব্দবাণ’ বিশ্বসাহিত্যের সেইসব বইয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, যেগুলো কোনো না কোনো সময়ে রাষ্ট্র, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মতাদর্শিক গোষ্ঠী কিংবা সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে নিষিদ্ধ, বিতর্কিত বা দমনের শিকার হয়েছিল। প্রতিটি পর্বে তুলে ধরা হবে একটি বইয়ের প্রকাশ-ইতিহাস, নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপট এবং সময়ের সঙ্গে তার সাহিত্যিক ও বৌদ্ধিক গুরুত্বের পুনর্মূল্যায়নের গল্প

নিষিদ্ধ শব্দবাণ-১
জিভাগোর ইতিকথা

নিষিদ্ধ শব্দবাণ-২
লেডি চ্যাটার্লিজ লাভার

নিষিদ্ধ শব্দবাণ-৩
লোলিতা

নিষিদ্ধ শব্দবাণ-৪
দ্য ম্যানিফেস্টো অব দ্য কমিউনিস্ট পার্টি

নিষিদ্ধ শব্দবাণ-৫
অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম

‘বাইরে সুন্দর রোদ, নীল আকাশ আর মৃদুমন্দ মিষ্টি হাওয়া বইছে... আমি আঁকড়ে ধরে আছি সেসব—স্বাধীনতা, প্রকৃতি এবং সুন্দর যা কিছু ভালো লাগে। আমার মনে হয়, যেকোনো দুঃখ বা যন্ত্রণার সবচেয়ে ভালো প্রতিষেধক হলো বাইরে যাওয়া, প্রকৃতিকে দেখা এবং এমন কোথাও থেকে ঘুরে আসা যেখানে মানুষ একাকী প্রকৃতির সঙ্গে শান্তিতে সময় কাটাতে পারে।’

এভাবেই নিজের আত্মগোপনে থাকা দিনগুলোর কথা লিখেছিলেন কিশোরী আন্না ফ্রাঙ্ক। তিনি তখনো বন্দি নন, তবু বন্দিত্বের বেদনা ফুটে উঠেছিল তার ডায়েরিতে। প্রায় সাড়ে সাতশ দিন একটি গোপন কক্ষে বসবাস করছিলেন ৮ জন মানুষ। নারী-পুরুষ-শিশু। এদেরই একজন আন্না। সবাই তখন মৃত্যুর ভয়ে ভীত। বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ক্ষুণ্ণিবৃত্তি নিবারণের জন্য ছিল যৎসামান্য খাবার।

১৯২৯ সালের ১২ জুন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টে জন্মগ্রহণ করেন আন্না ফ্রাঙ্ক। হিটলারের নাৎসি বাহিনী জার্মানির ক্ষমতায় আসার পর ইহুদিদের ওপর নিপীড়ন বৃদ্ধি পেলে আন্নার বাবা অটো ফ্রাঙ্ক পরিবারসহ নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে পাড়ি জমান। কিন্তু ১৯৪০ সালে নেদারল্যান্ডও নাৎসিদের দখলে চলে যায়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে ১৯৪২ সালের জুলাই মাসে ফ্রাঙ্ক পরিবার অন্য একটি পরিবারের সঙ্গে ওই শহরেই আত্মগোপন করেন।

১৯৪২ সালের ১২ জুন নিজের ১৩তম জন্মদিনে বাবার কাছ থেকে উপহার হিসেবে একটি ডায়েরি পেয়েছিলেন আন্না। আত্মকল্পিত ‘কিটি’ নামের একজনকে উদ্দেশ করে তিনি ডায়েরি লিখতে থাকেন। ১৯৪২ সালের ১২ জুন থেকে ১৯৪৪ সালের ১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় দুই বছর দুই মাস আন্না এই গোপন আশ্রয়ে বসে তার জীবনের প্রতিদিনের অনুভূতির কথা লিপিবদ্ধ করেন।

ডায়েরিটিতে আবদ্ধ জীবনের মানসিক চাপ ও দৈনন্দিন বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এই কিশোরী। ছোট্ট একটি জায়গায় তাদের লুকিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম, ধরা পড়ার ভয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট এবং বাইরে থেকে আসা যুদ্ধের দুঃসংবাদ ডায়েরিতে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিশোরী মনস্তত্ত্ব ও বেড়ে ওঠার দিক থেকেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। আন্না যখন ডায়েরি লেখা শুরু করেন তখন তার বয়স ছিল ১৩, আর শেষ দিনগুলোতে তিনি ১৫ বছর বয়সে পৌঁছে যান। তার এ সময়ের চিন্তাভাবনা, আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ, মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন, শারীরিক ও আবেগিক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকল্পনার কথা ডায়েরির ছত্রে ছত্রে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মানবিক সম্পর্কের জটিলতাকেও ধারণ করে আছে আন্নার ডায়েরিটি। দীর্ঘকাল আবদ্ধ পরিবেশে একসঙ্গে থাকার ফলে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, ঝগড়া ও ক্ষোভ তৈরি হতো, আন্না তা পর্যবেক্ষণ করে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন।

ডায়েরিটি অদম্য আশা ও মানবতাবোধেরও দলিল। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও আন্নার লেখার মূল সুর ছিল ইতিবাচক। তার বিশ্ববিখ্যাত উক্তিটি এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তিনি লিখেছিলেন, ‘সবকিছুর পরও আমি বিশ্বাস করি, মানুষের হৃদয়ের ভেতরটা নির্মল ও সুন্দর।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোতে নাৎসি হলোকাস্ট বা নির্মম নির্যাতনে ৬ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। ডায়েরিতে সেই বিশাল ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির ব্যক্তিগত ও মানবাশ্রয়ী রূপ একজন একক মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতায় যেভাবে উঠে এসেছে, বিশ্বসাহিত্যে তার দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত নেই। পাঠকদের অবরুদ্ধ ও নিপীড়িতদের কষ্ট অনুধাবনে বইটি সরাসরি সাহায্য করে। ডায়েরিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তাই অপরিসীম।

নাৎসি দখলে থাকা আমস্টারডামের জীবন, ভিন্ন ধর্মের মানুষের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক আইন এবং গোপন আস্তানার ভেতরের পরিবেশের প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এই ডায়েরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

ফ্রাঙ্ক পরিবারকে যারা রক্ষা করেছিলেন (যেমন মিওপ গিস ও অন্যান্য ডাচ নাগরিক), তাদের সাহসিকতা ও মানবিকতার কথা এই ডায়েরির মাধ্যমেই বিশ্ব জানতে পারে। এতে বোঝা যায়, অন্ধকারের মধ্যেও মানবিকতার দীপশিখা কোনো না কোনোভাবে টিকে থাকে। সেদিক থেকে বইটি প্রতিরোধ ও মানবিক সহায়তার অবিস্মরণীয় দলিল হয়ে আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আন্না ফ্রাঙ্কের ডায়রি বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ, অসাম্য এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বিশ্বজনীন প্রতীকে পরিণত হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহনশীলতার গুরুত্ব বোঝাতে বইটি পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডায়েরিটিকে বিবেচনা করা হয় মানবাধিকার ও সহনশীলতার সৃষ্টিশীল প্রতীক হিসেবে।

সবকিছু ছাপিয়ে এর সাহিত্যিক মূল্যকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন পাঠকরা। আন্না কেবল একজন দিনলিপিকার ছিলেন না, তার মধ্যে ভবিষ্যতের দক্ষ সৃষ্টিশীল লেখকের অঙ্কুরোদ্গম ঘটেছিল। তিনি নিজে লেখার ভুলত্রুটি সংশোধন করে গেছেন, ছদ্মনাম ব্যবহার করে চরিত্র বিন্যাস করতেন এবং ডায়েরিটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বই (Het Achterhuis) হিসেবে প্রকাশের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। তার এই পরিণত বোধের কারণে ডায়েরিটি কেবল ঐতিহাসিক তথ্যের উৎস না হয়ে বিশ্বসাহিত্যের এক চিরায়ত শিল্পকর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

নিষিদ্ধের ইতিবৃত্ত
প্রথম প্রকাশের পরপর নেদারল্যান্ডসে আন্না ফ্রাঙ্ক : দ্য ডায়েরি অব আ ইয়ং গার্ল বইটির সেন্সরশিপের সূচনা হয়। প্রথমে এটি আন্নার দেওয়া ডাচ নাম Het Achterhuis—যার বাংলা অর্থ হচ্ছে পেছনের বাড়ি বা গোপন আস্তানা হিসেবে প্রকাশিত হয়।

আশ্রয়দাতা ডাচদের অনুভূতি রক্ষা এবং অন্য বাসিন্দাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অটো ফ্রাঙ্ক আস্তানার অধিবাসীদের ঝগড়াঝাটি, স্বার্থপরতা বা সংবেদনহীনতা নিয়ে আন্নার ক্ষোভ প্রকাশের অংশগুলো বাদ দেন। যেহেতু আন্না ডায়েরিটিকে তার একান্ত ব্যক্তিগত লেখা বলে মনে করতেন, তাই তিনি সেখানে কোনো রূপক ছাড়া নিজের স্পষ্ট ভাবনা ও হতাশার কথা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু বাবা অটো ফ্রাঙ্ক অন্যান্য চরিত্র বা তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের মূল কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন না এনে সেই অংশগুলো ছেঁটে ফেলেন।

অটো ফ্রাঙ্ক যখন প্রকাশক খুঁজছিলেন, তখন ডায়েরিটি আবার সেন্সরশিপের কবলে পড়ে। ডাচ প্রকাশক ‘কনট্যাক্ট’ এমন কিছু অংশ বাদ দেওয়ার শর্ত দেয়, যা সম্পাদকদের কাছে ‘অরুচিকর’ বা ‘অসংগত’ মনে হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল আন্না ও তার বোনের ঋতুস্রাব সম্পর্কিত বিবরণ। কিশোরী বয়সে স্বভাবজাত কৌতূহল থাকা সত্ত্বেও আনার ক্রমবর্ধমান যৌন কৌতূহলকে মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে তার এক বান্ধবীর শরীরের স্পর্শকাতর গঠন দেখে সেটি স্পর্শ করার ইচ্ছার কথা যেখানে ছিল, তা সরিয়ে ফেলা হয়। এ ছাড়া মায়ের সম্পর্কে আন্নার সব ধরনের ‘রূঢ়’ বা ‘আঘাতদায়ী’ মন্তব্য বাদ দিতে বলা হয়।

১৯৫০ সালে জার্মানির ল্যামবার্ট স্নাইডার প্রকাশনা সংস্থা ডায়েরিটির জার্মান অনুবাদের উদ্যোগ নেয় এবং সেখানে নতুন করে সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। ‘দ্য ক্রিটিক্যাল এডিশনে’ উল্লেখ করা হয়, জার্মানভাষী পাঠকদের কাছে বিশেষভাবে আপত্তিকর মনে হতে পারে, এমন অনেক কিছু বাদ দেওয়া হয়েছিল। যেমন আন্না আশ্রয়স্থলের একটি নিয়মের কথা লিখেছিলেন, সবাইকে ‘সবসময় যেকোনো শালীন ভাষায় নিচু স্বরে কথা বলতে হবে, জার্মান ভাষায় নয়।’ ল্যামবার্ট স্নাইডার এই অংশটি বদলে লেখেন, ‘সব শালীন ভাষায় বলতে হবে... তবে নিচু স্বরে।’

১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডে ডায়েরিটি প্রকাশের সময় বাদ পড়া বেশিরভাগ অংশই আবার ফিরিয়ে আনা হয়। তবে সেই সময় বিতর্ক উঠেছিল মূলত আন্নার মনস্তাত্ত্বিক ও যৌন সচেতনতাকে কেন্দ্র করে। ১৯৪৪ সালের ৫ জানুয়ারির একটি লেখায় আন্না এক বান্ধবীর সঙ্গে ঘুমানো এবং তাকে ‘চুমু খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা’র কথা স্মরণ করেন। তিনি আরও লেখেন, মেয়েটির শরীর নিয়ে তার খুব কৌতূহল ছিল, ‘কারণ সে সবসময় শরীরকে লুকিয়ে রাখত। আমি আমাদের বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে তার শরীরের স্পর্শকাতর অনুভূতিপ্রবণ অংশকে স্পর্শ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু সে রাজি হয়নি। কোনো নারীর নগ্ন মূর্তি দেখলে—যেমন ভেনাসের মূর্তি—আমি রোমাঞ্চিত বোধ করেছি। আহ্, আমার যদি এ রকম একজন বান্ধবী থাকত!’ একই সময়ে তিনি পিটার ভ্যান ড্যানের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন। আন্না ডায়েরিতে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তার কি কোনো ছেলের কাছে এত দ্রুত ধরা দেওয়া উচিত হয়েছে? তিনি দন্ত্যচিকিৎসক এবং মিসেস ভ্যান ড্যানের মধ্যেও ফ্ল্যার্ট করতে দেখেন এবং লেখেন, ‘ডুসেলের ভেতরেও নারীদের প্রতি এক ধরনের কামনা জাগতে শুরু করেছে।’

১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ওয়াইজ কাউন্টির অভিভাবকরা স্কুলে এই বইটি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তাদের দাবি ছিল, আন্নার যৌন বিষয়ের আলাপ শিশুদের জন্য ‘অনুপযুক্ত’ ও ‘আপত্তিকর।’ আন্নার মায়ের পাশাপাশি অন্য বড়দের সমালোচনা করাকেও ‘বয়স্কদের কর্তৃত্বকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে’ বলা হয়েছিল। অনেকে আবার বইটিতে ইহুদিদের ওপর নির্যাতনের বিবরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, এমনকি এক আরব বংশোদ্ভূত অভিভাবক ইহুদি মেয়ের চরিত্রায়ন সম্পর্কে আপত্তি তোলেন। ১৯৮৩ সালে আলাবামা টেক্সটবুক কমিশনের চারজন সদস্য বইটি স্কুলের পাঠ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন; কারণ তাদের মতে, বইটি ছিল অত্যন্ত ‘হতাশা’ জাগানিয়া একটি বই।

আন্না ফ্রাঙ্ক কোনো প্রাতিষ্ঠানিক লেখক ছিলেন না, অথচ তার ভাষার সাবলীলতা, রসবোধ এবং তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে প্রকাশ পেয়েছে অসাধারণ সাহিত্যগুণ। তিনি ডায়েরিটিকে পরবর্তীকালে একটি উপন্যাস আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি।

১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট নাৎসি পুলিশ অজ্ঞাত তথ্যদাতার খবরের ভিত্তিতে গোপন আস্তানাটি খুঁজে বের করে এবং সবাইকে বন্দি করে। আন্না ফ্রাঙ্ককে বার্গেন-বেলসেন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়, যেখানে ১৯৪৫ সালের শুরুর দিকে টাইফাস রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের মধ্যে একমাত্র তার বাবা অটো ফ্রাঙ্ক অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন। যুদ্ধ শেষে তিনি পরিবারের শুভাকাঙ্ক্ষী মিওপ গিসের কাছে সংরক্ষিত ডায়েরিটি উদ্ধার করে ১৯৪৭ সালে ডাচ ভাষায় প্রথম প্রকাশ করেন। এরপর থেকে পৃথিবীর সব দেশে সব ধরনের সেন্সর ছিন্ন করে যুদ্ধবিরোধী মানবিক সাহিত্য হিসেবে ডায়েরিটি প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে সমাদৃত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত