ছাত্রদল নেতা হত্যা: যুবদল নেতা বহিষ্কার, ওসি প্রত্যাহার

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলাকে ঘিরে একের পর এক নতুন ঘটনা সামনে আসছে। মামলায় গ্রেপ্তার নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শাকিল হত্যা মামলার তদন্তভার থানা-পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।

শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর পরপরই যুবদলের সাংগঠনিক পদ থেকে মিন্টুকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে। তিনি স্থানীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নাটোর জেলায় কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হান্নানকে ‘জনস্বার্থে’ রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলো। তাকে বুধবারের মধ্যেই সেখানে যোগদানের জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আব্দুল হান্নান অফিস আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে গুরুদাসপুর থানা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে।

একই সময়ে শাকিল হত্যা মামলার তদন্তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার গুরুদাসপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন জানিয়েছেন, তদন্তভার পরিবর্তনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ তখনো তার হাতে পৌঁছায়নি।

গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় এলাকায় হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হেলমেটধারী মোটরসাইকেল আরোহীরা প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে তাকে ধাওয়া করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়।

হামলার পাঁচ দিন পর শাকিলের বাবা রবিউল করিম গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত