কাঁধের হাড় ভাঙার পরে চিকিৎসা

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ এএম

কাঁধের হাড় ভাঙা একটি পরিচিত অর্থোপেডিক সমস্যা। পড়ে যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা খেলাধুলার সময় আঘাত থেকে এ ধরনের ফ্র্যাকচার হতে পারে। কাঁধের হাড় ভাঙলে হাত নাড়াতে অসুবিধা, তীব্র ব্যথা ও ফোলা দেখা দেয়। আঘাতের ধরন ও হাড়ের ভাঙনের মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে কাঁধের স্বাভাবিক নড়াচড়া ব্যাহত হতে পারে।

কেন ভাঙে কাঁধের হাড়?

কাঁধের হাড় বলতে সাধারণত কলারবোন (ক্ল্যাভিকল), কাঁধের ফলার হাড় (স্ক্যাপুলা) এবং বাহুর ওপরের অংশের হাড়কে (হিউমেরাস) বোঝানো হয়। এসব হাড়ের যেকোনোটি ভেঙে যেতে পারে।

কাঁধের ওপর সরাসরি আঘাত, হাতের ওপর ভর দিয়ে পড়ে যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা এবং খেলাধুলার সময় সংঘর্ষ ফ্র্যাকচারের সাধারণ কারণ। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের কারণে সামান্য পড়ে গেলেও হাড় ভেঙে যেতে পারে। শিশু ও তরুণদের মধ্যে খেলাধুলা এবং দুর্ঘটনাজনিত আঘাত অন্যতম কারণ।

লক্ষণ

কাঁধের হাড় ভাঙলে সাধারণত তীব্র ব্যথা, ফোলা, কালশিটে দাগ এবং হাত নাড়াতে অসুবিধা হয়। কখনো কাঁধের আকৃতিতে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আঘাতের স্থানে স্পর্শ করলে ব্যথা বাড়ে। হাত অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিনঝিন করা কিংবা হাত ঠা-া হয়ে আসা স্নায়ু বা রক্তনালির ক্ষতির ইঙ্গিত হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসা

কাঁধের হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি এক্স-রে করাতে পারেন। জটিল ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হতে পারে। হাড়ের ভাঙন সামান্য হলে সাধারণত হাত স্লিং বা বিশেষ ফিতার সাহায্যে স্থির রাখা, ব্যথা কমানোর ওষুধ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। তবে হাড়ের টুকরা সরে গেলে, ভাঙন জটিল হলে কিংবা স্নায়ু ও রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

ব্যথা কমে এলে চিকিৎসকের পরামর্শে ধীরে ধীরে ব্যায়াম ও ফিজিওথেরাপি শুরু করতে হয়। এতে কাঁধের জড়তা কমে এবং হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরে পেতে সহায়তা করে। তবে নিজে থেকে ব্যায়াম শুরু করা উচিত নয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত