খাবার না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪১ এএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে খাবার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কাঠের চেলা দিয়ে পিটিয়ে এক বাবুর্চিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাবুর্চির এক নারী সহকারীও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান কাদেরীয়া খানকা শরিফের রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম।

নিহত ফজের আলী সরদারের (৭০) বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামে। তিনি মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। আহত সোনা বান বিবির (৬৫) বাড়ি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহির চর দৌলতদিয়ার সিদ্দিক কাজীপাড়ায়। তিনি মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, শুক্রবার দুপুরে ওই যুবক খানকা শরিফের রান্নাঘরে গিয়ে ফজের আলীর কাছে খাবার চান। খাবার না পেয়ে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের চেলা দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করেন। এ সময় বাবুর্চিকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার সহকারী সোনা বান বিবিও হামলার শিকার হন।

তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত যুবককে আটক করেন। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। সোনা বান বিবির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, আটক যুবকের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত যুবকের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে গোয়ালন্দ বাজার এলাকায় তাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন মানুষের কাছে খাবার চেয়ে খেতেন বলেও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত