জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

সফর ফলপ্রসূ হয়েছে : হুমায়ুন কবির

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০২ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

গত বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ৫৬ মিনিটে) জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।

চার দিনের সরকারি সফরে গত ২৬ অক্টোবর জাপান যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন।

এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ফলপ্রসূ হয়েছে হুমায়ুন কবির : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপান সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমুখী উপযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর এ জাপান সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ সফরের মাধ্যমে একদিকে যেমন বাংলাদেশের জন্য জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা চলমান থাকা এবং বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবার আগে বাংলাদেশকে ভিত্তি করে এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে যোগাযোগ, পরিবেশ, কৃষি, মানবসম্পদ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা, টেকসই অর্থনীতি আন্তর্জাতিক শান্তিও স্থীতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে জাপানের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন। একই সঙ্গে এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের সংযোগ হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সফরটিকে অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত