বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সিইপিজেডে অবস্থিত প্যাসিফিক জিন্স গ্রæপের প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড (ইউনিট-১)। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে কারখানার ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৫ হাজার শ্রমিকের চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমিকভাবে শুরু হয়েছে।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রæপ সূত্র জানায়, গ্রপের নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যথারীতি চালু থাকবে। বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মীকে যাবতীয় পাওয়া পরিশোধ করেই চাকরি অবসান করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সিইপিজেড সূত্র জানায়, যে ভবনটিতে প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড (ইউনিট-১) অবস্থিত সেটি প্রায় ৩৪ বছরের পুরোনো। আরএমজি সাসটেইবেলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) এক বছর আগে বিশেষ কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষার মাধ্যমে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশনা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিল্প পুলিশ- চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, আরএসসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যাসিফিক জিন্স। প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ হাজার শ্রমিককে পর্যায়ক্রমে যাবতীয় পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে চাকরির অবসানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম ধাপে ৫০৯জনকে পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোববার (১ নভেম্বর) প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, কাঠামোগত নিরাপত্তার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করার মতো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড তার দীর্ঘমেয়াদী শিল্প উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মীদের কল্যাণের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।
উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ও শ্রমিকদের চাকরি অবসানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার পর আরএসসির নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে ভবনটি ভাঙ্গার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ভবনটি ভাঙ্গার কার্যক্রম সম্পন্ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রাপ্তির পর একই স্থানে একটি নতুন পরিবেশ বান্ধব, অত্যাধুনিক বহুতলবিশিষ্ট কারখানা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন ভবনে কারখানা চালু হলে ১০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রস্তাবিত নতুন কারখানায় বর্তমান শ্রমিকদের পূণরায় নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।