গোলবন্যায় জয়ে ফিরল বার্সেলোনা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ এএম

চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজি ও লা লিগায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ, টানা এই দুই হারের ধাক্কায় কিছুটা হলেও থমকে গিয়েছিল বার্সেলোনার অপ্রতিরোধ্য গতি। চলতি মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসানো হান্সি ফ্লিকের দলটি যেন হঠাৎ করেই নিজেদের সেরা ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিল। সেই ছন্দ ফিরে পাওয়ার ম্যাচে গত শনিবার ঘরের মাঠে আলাভেসকে গোলবন্যায় ভাসাল কাতালানরা। লামিন ইয়ামাল ও রাফিনহার জোড়া গোল এবং ফেরমিন লোপেজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৬-১ গোলের বিশাল জয়ে লিগের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে রাখে বার্সা। অষ্টম মিনিটেই গোল উৎসবের সূচনা করেন রাফিনহা। পেদ্রির ডিফেন্স চেরা পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ দিক থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এরপর ২৩ মিনিটে ইয়ামালের বাড়ানো বল ধরে দারুণ এক কোণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লোপেজ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ৪১তম মিনিটে এবার লোপেজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল আদায় করে নেন রাফিনহা। আর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে চমৎকার এক দলীয় সমন্বিত আক্রমণের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ২০ গজ দূর থেকে নিচু শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন তরুণ তুর্কি ইয়ামাল।

বিরতির পরও বার্সেলোনার গোলের ক্ষুধায় ভাটা পড়েনি। ৬৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল জেসুসের থ্রু পাস থেকে আলাভেসের গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে দারুণ এক ‘ডিঙ্ক’ শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন ইয়ামাল। এরপর ৮১ মিনিটে রদ্রির দূরপাল্লার নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। শেষ দিকে রক্ষণের ভুলে মারিয়ানো দিয়াজ একটি গোল শোধ করলেও তা কেবল আলাভেসের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।

এদিকে ইনজুরি সংকটের কারণে এই ম্যাচে রক্ষণভাগে মাঝমাঠের তরুণ ব্রায়ান ফারিনাসকে রাইট-ব্যাকে অভিষেক করান ফ্লিক, যা দলের বেঞ্চের গভীরতার পাশাপাশি লা মাসিয়া অ্যাকাডেমির মুকুটে আরেকটি সফল সংযোজন।

টানা দুই পরাজয়ের পর দলের এমন বিধ্বংসী ও রোষান্বিত প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বার্সা কোচ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফ্লিক বলেন, ‘টানা দুই পরাজয়ের পর আমি ঠিক এমন একটি প্রতিক্রিয়াই দেখতে চেয়েছিলাম। আমার দল যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা সত্যিই খুব ভালো এবং সঠিক পথের এক বার্তা।’

তবে দলের স্বস্তির জয়ের পাশাপাশি রক্ষণভাগের ইনজুরি সংকট নিয়ে উদ্বেগের কথাও লুকাননি ফ্লিক। এ বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক বিরতির আগে আমাদের সামনের দুটি ম্যাচ যেকোনো মূল্যে জিতে নিতে হবে। আমাদের চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ঠিক কে কবে নাগাদ ফিরবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।’ এই বিশাল জয়ে ১৪ ম্যাচে বার্সেলোনার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৫৭টিতে, যা চলতি মৌসুমে দলটির আক্রমণাত্মক ফুটবলকেই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এদিকে ১০ ম্যাচে ১৪ গোল করে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের গোলদাতাদের তালিকায় সবার ওপরে অবস্থান করছেন রাফিনহা, আর ১২ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল-অবদানের মুকুট নিজের মাথায় রেখেছেন ইয়ামাল। এই জয়ের সুবাদে ১১ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার টেবিলের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল বার্সেলোনা, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে দুই পয়েন্ট এগিয়ে।

যৌথভাবে লা লিগার সফলতম কোচ সিমিওনে : জয়ের পরও বার্সার কাছে শীর্ষস্থান হারানোর স্প্যানিশ লা লিগার ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছেন আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। লেভান্তের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়টি সিমিওনের কোচিং ক্যারিয়ারের ৩৪৪তম লা লিগা ম্যাচ জয়। এর মাধ্যমে ক্লাবটির কিংবদন্তি প্রয়াত লুইস আরাগোনাসের ৩৪৪ জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ করলেন তিনি, তাও ১৯২টি ম্যাচ কম খেলে।

তবে আরাগোনাসের মতো আটটি ভিন্ন ক্লাবে ঘুরে নয়, এই অবিশ্বাস্য চূড়া সিমিওনে স্পর্শ করেছেন স্রেফ একটি ক্লাবের ডাগআউটে বসে। মাত্র একটি ক্লাবের হয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে একটানা দায়িত্ব পালন করে এই মাইলফলক ছুঁয়ে মিগেল মুনিওস ও এরনেস্তো ভালভেরদেকে পেছনে ফেলে স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম সফল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নিজের নাম খোদাই করে নিয়েছেন তিনি। আর এক ম্যাচ জিতলেই এই তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত