মাঠে ফিরলেন সাফজয়ীরা

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ এএম

একই মঞ্চ, ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম। একই দল, ২০০৩ সাফ ও ২০১০ এসএ গেমস শিরোপা জয়ী দল। স্টেডিয়ামের ভেতরে তখন আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রচারণার জন্য মাঠে খেলছিলেন সাবেক দুই দলের লিজেন্ডরা। ঠিক তখনি বাইরে রেড অ্যান্ড গ্রিন আর্মি নামক ফুটবল সমর্থকদের আন্দোলন, সাফের টিকিটের জন্য। এ যেন দেশের ফুটবলে আলোর নিচেই অন্ধকার। শেষ পর্যন্ত ২০১০ এসএ গেমস জয়ী দল ২-১ গোলে হারায় ২০০৩ সাফ জয়ী দলকে। প্রথমে ২০০৩ দলের হয়ে খেললেও পরে ২০১০ দলের হয়ে খেলে পেনাল্টি মিস করেন সাবেক জাতীয় দলের গোলকিপার এবং বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

২০০৩ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতা দলের বিপ্লব, নজরুল, সুমন, হাসান আল মামুন, আরমান আজিজ, আলফাজ আহমেদের মতো ফুটবলাররা খেলেছেন সাবেক তারকা গোলকিপার এবং বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অধিনায়কত্বে। তাদের জার্সিও ছিল ওই বছরের শিরোপা জয়ী দলের সাদা ও নীল রঙের। অন্যদিকে ২০১০ সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ী দলে ওয়ালি ফয়সাল, নাসির, মিশু, জাহিদ, এনামুল, জাহিদ হাসান এমিলি, মামুন মিয়া, জিতু ও সবুজরা খেলেন জাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে। তাদের জার্সি ছিল ওই বছরের শিরোপা জেতা সবুজ রঙের। খেলায় প্রথম ৬ মিনিটেই দুই দল ১-১ গোলে ড্র ছিল। পরে ২০১০ এসএ গেমস জয়ী দল আরও একটি গোল করেন ম্যাচ জিতে যায়। ওই দুই দলে খেলার সুবাদে কাল মাঠে দুই দলের জার্সি পড়েই খেলেছেন আমিনুল হক।

আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বর্তমান বাংলাদেশ দলকে নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী আমিনুল। হামজা চৌধুরী, সমিত সোমসহ প্রবাসী ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি দলকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করেন তিনি। প্রতিপক্ষ নিয়ে আগাম চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমানে যে বাংলাদেশ দল এবং সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলে আমাদের হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ আরও যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা রয়েছেন, সবার অন্তর্ভুক্তিতে আমি মনে করি আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। খেলোয়াড়রাও নিজেদের জায়গা থেকে চেষ্টা করছে, আমাদের কোচ দলটিকে সাজানোর চেষ্টা করছেন।’

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক রজনীকান্ত বর্মনের খোঁজখবর না রাখা এবং এবারের আয়োজনে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তার দাবি, কয়েক দিন আগেই রজনীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তার সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমিনুল হক বলেন, ‘তিন থেকে চার দিন আগেই রজনীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। রজনী তার অসহায়ত্বের কথা জানানোর পরপরই আমি ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব এবং আমাদের আরেকজন সংগঠক মঞ্জু ভাইকে দায়িত্ব দিয়েছি, তার সঙ্গে কথা বলে আমার জায়গা থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে কী করণীয় রয়েছে, তা আলোচনা করার জন্য। রজনীর প্রত্যাশা দ্রুতই পূরণ করব ইনশা আল্লাহ।’

২০০৩ সালের ফাইনালে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি ঠেকানোর স্মৃতিও ফিরে এসেছে আমিনুলের কথায়। তার ভাষায়, সেটি ছিল জীবনের অন্যতম অবিস্মরণীয় সন্ধ্যা। এবারও ২০২৬ সালে একই রকম আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করতে চান তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত