স্বীকৃত ক্রিকেটের যে কোনো ফরম্যাটে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন এসএম মেহেরব হোসেন। ২৮তম এনসিএলের পঞ্চম রাউন্ডে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে গতকাল রবিবার তার সেঞ্চুরিতেই রাজশাহীর ইনিংসটা দাঁড়িয়েছে কোনো রকমে।
মেহরবের সেঞ্চুরির দিনে আরেক ম্যাচে নাসুম আহমেদ নিয়েছেন ৫ উইকেট। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে মাঠে নেমেই দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। চার ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে এখন তিনি আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। খুলনার বিপক্ষে ফলোঅন পড়া ময়মনসিংহের পেসার ইয়াসিন আরাফাত নিয়েছে ৬ উইকেট।
খুলনায় ধুঁকছে ময়মনসিংহ : দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির পরও খুলনার ইনিংস খুব বড় হয়নি। খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়ামে গতকাল রবিবার সকালে ৮ উইকেটে ২৮০ রান নিয়ে দিন শুরু করে আর কোনো রান যোগ না করেই অলআউট হয়। ১০৪ রানে দিন শুরু করা নুরুল হাসান সোহান আউট হন ওই রানেই। সোহানকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন ইয়াসিন। ফার্স্ট ক্লাসে
তৃতীয়বার এই স্বাদ পেলেন তিনি। ২৮ বছর বয়সী দীর্ঘদেহী পেসার শেষ উইকেটটিও নেন।
ময়মনসিংহ ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকেন নিয়মিত। আগের চার ম্যাচে একটি ডাবলসহ তিনটি সেঞ্চুরি করা ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম রবিন এবার ফেরেন ২৬ রানে। তবে তার সেই স্কোরই হয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ। ফলো-অনের পর ময়মনসিংহের শুরুটা হয় ভালো। উদ্বোধনী জুটিতে ৫১ রান যোগ করেন মাহফিজুল ও খালিদ হাসান। তবে শেষ বিকেলে খালিদ ও নাইটওয়াচম্যান রকিবুল হাসানকে হারায় তারা। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনও ১২৩ রান প্রয়োজন ময়মনসিংহের।
মেহরবের অপেক্ষার অবসান : ৪০ ইনিংসে ফিফটি ৬টি। সর্বোচ্চ ৬৬। ফার্স্ট ক্লাসে মেহরবের এই ছিল পারফরম্যান্স। এবারের জাতীয় লিগে আগের ৭ ইনিংসে তার ফিফটি ছিল স্রেফ একটি। অবশেষে নিজেকে ছাড়িয়ে প্রথম শতরানের স্বাদ পেলেন ২৩ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। রবিবার ৮২ রান নিয়ে খেলতে নেমে কাক্সিক্ষত মাইলফলকে পৌঁছে যান অনায়াসেই। স্বীকৃত ক্রিকেটে ৪ বছরের ক্যারিয়ারে ১১৪তম ইনিংসে প্রথম শতরানের দেখা পেলেন তিনি। সেঞ্চুরির পরই অবশ্য আউট হয়ে যান তিনি। ১৪১ রানের জুটিতে তার সঙ্গী নিহাদ উজ জামান আগেই আউট হন ৫৭ রানে। রাজশাহীর ইনিংস থামে ২৩১ রানে। রংপুরের পেসার মেহেদি হাসান শিকার করেন ৪ উইকেট।
রংপুর ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেট হারায় ৫১ রানের মধ্যে। ওপেনার অনিক সরকার সেতু ও পাঁচে নামা ইকবাল হোসেন মিলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শেষ করেন দিন।
নাসুমের নৈপুণ্যে সিলেটের নাটকীয় লিড : আগের দিন সিলেটকে ২১৮ রানে থামিয়ে দেওয়া চট্টগ্রাম দ্বিতীয় দিনে লিড নেওয়ার পথেই ছিল। এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ৩ উইকেটে ১৫০। এরপর নাসুম আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে চট্টগ্রামের ব্যাটিং। ৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা মাহমুদুল হাসান জয়কে ৮২ রানে থামান খালেদ আহমেদ। এরপর ইয়াসির আলি চৌধুরি (৪১*) এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে টিকতে পারেননি কেউ। পরের ছয় ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত রান ২৬! এবারের লিগে দ্বিতীয়বার ও ক্যারিয়ারে ত্রয়োদশবার ৫ উইকেটের স্বাদ পান নাসুম।
সিলেট দিন শেষ করে ২ উইকেটে ৮৯ রান নিয়ে। ৩৫ রান করে জাকির হাসান আউট হলেও ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন অভিজ্ঞ সৈকত আলি।