ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর অপেক্ষা আর মাত্র তিন দিনের। আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডে লিগ খেলা হামজা চৌধুরী ও ফারহান আলী ওয়াহিদকে পাচ্ছে না স্বাগতিকরা। তাদের অনুপস্থিতি অনুভব করলেও বাকি সতীর্থদের নিয়ে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মিডফিল্ডার শমিত সোম। রবিবার ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সমিত। আলোচনায় হামজা ও ফারহানের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি মাঠে আমাকে কী করতে হবে, ভালো খেলতে হবে এবং নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে সাহায্য করতে হবে। অবশ্যই আমরা হামজা আর ফারহানকে মিস করছি। ওরা তো অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়, যারা দলকে সাহায্য করে।’
তবে দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার না থাকলেও বিকল্প খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখছেন সমিত। তিনি বলেন, ‘হামজা-ফারহান যদি না-ও খেলে, আরও দুই-তিনজন আছে যারা খেলতে পারবে এবং জায়গাটা সামলে নিতে পারবে। হয়তো হামজার মতো অতটা ভালো না-ও হতে পারে, কারণ ওর বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা। তবে আমার বিশ্বাস, ভুটান ম্যাচের জন্য আমাদের এখন যে দল আছে, তাদের নিয়ে আমরা ভালো করতে পারব।’
সাফের আগে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ রোনান সুলিভানের চোট। সর্বশেষ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই স্ট্রাইকারের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার কথা ছিল এবারের আসরেই। কোচ টমাস ডুলি তাকে স্কোয়াডেও রেখেছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে নিজের শেষ ম্যাচে চোট পাওয়ায় ঢাকায় আসতে পারছেন না তিনি। রোনানের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে কোচকে। তবে এ নিয়েও খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন সমিত। দলের অন্য খেলোয়াড়দের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোনান যে আসতে পারছে না, সেটাও একই বিষয়। তবে আমাদের দলে যেসব খেলোয়াড় আছে, তাদের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ও ভরসা রয়েছে।’
নিজের ফিটনেস ও দলের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্ট এই মিডফিল্ডার। সমিত বলেন, ‘ভুটান ম্যাচের জন্য সবকিছু মোটামুটি ভালোই হবে। এ পর্যন্ত প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আশা করি, আগামী তিন-চার দিনে নতুন কোনো সমস্যা হবে না। আমি শারীরিকভাবে বেশ ভালো অনুভব করছি এবং দলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত, আশা করি আমরা ভালো খেলতে পারব।’
২০১৮ সালের পর আবারও ঢাকায় ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিল। এরপর ২০০৫ সালে ফাইনালে খেললেও আর শিরোপার দেখা পায়নি লাল-সবুজের দল। ২০২১ আসরে ফাইনালে ওঠার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু নেপালের বিপক্ষে শেষ দিকে গোল হজম করে ১-১ ব্যবধানে ড্র করায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
এবার ঘরের মাঠে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায় বাংলাদেশ। সমর্থকদের সামনে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন শমিতও। তার ভাষায়, ‘আমরা সবার জন্য জিততে চাই। এটা তো একটা বিশাল বড় টুর্নামেন্ট, দলে যোগ দেওয়ার আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু আসল কথা হলো, আমরা বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে খেলতে ভীষণ রোমাঞ্চিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘দল তো ভালো করতে চায়-ই, তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের জন্য, পুরো দেশের জন্য আমরা জিততে চাই। দেখা যাক কী হয়, আশা করি আমরা এটা করতে পারব।’