যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতুন করে যুদ্ধ শুরু না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকির জবাবে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত শনিবার খামেনির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যদি শত্রুরা আবারও কোনো সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালায়, তবে সেই হামলার সমাপ্তি কখন ও কীভাবে হবে তা নির্ধারণ করবে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী ও ইরানের জনগণ। একই দিনে ইরানের সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন মোজতবা খামেনি। সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সক্ষমতা উন্নয়নের নির্দেশনাও দেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে আবারও সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ থাকলে আমরা তাতে আগ্রহী’।

গত শনিবার পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালো চলছে। তবে দেশটির বিষয়ে এখনো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া বাকি রয়েছে। তেহরানকে ‘খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়’ বলে উল্লেখ করে ইরানের এক বা দুটি স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের এখনো এক বা দুটি স্থাপনার বিষয়টি দেখতে হবে। তবে আমরা তা ১০ মিনিটেই করতে পারি’। এ সময় তিনি ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা সম্ভবত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের কথা বলতে পারেন। সেটির বিষয়টিও সামাল দিতে হবে।’ পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এমন একটি স্থাপনা, যেখানে পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। চলমান যুদ্ধে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়নি এই স্থাপনা।

এদিকে, ইরানের দেওয়া শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র পূরণ করলে ২ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি উল্লেখ করেছেন, তাদের অন্যতম শর্ত হলোÑ হরমুজে ইরান ও ওমান যে নতুন রুট নির্ধারণ করেছে সেটির স্বীকৃতি দিতে হবে। আলজাজিরাকে আরাগচি বলেছেন, এরসঙ্গে অন্যান্য শর্ত হলোÑ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যেসব নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপ করেছে সেগুলো তুলে নিতে হবে; উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার; ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া; ইরানের জব্দকৃত অর্থের ছাড়তে হবে এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে লেবাননে হামলা বন্ধ করে দিতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত