মোদিবিরোধীদের সমাবেশে মানুষের ঢল

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ এএম

বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে গত এক মাস ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও রাজপথে আন্দোলন চলছে। তালিকা সংশোধনের নামে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় গতকাল রবিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ। সমাবেশ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) বাড়তি সুবিধা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হাজার হাজার আন্দোলনকারী দিল্লির রামলীলা ময়দানে একত্রিত হয়ে মিছিল করেন এবং ‘ভোট চোর, গদি ছাড়’ সেøাগানে মুখরিত করে তোলেন চারপাশ।

বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই হালনাগাদের কারণে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই বাদ পড়ার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সংখ্যালঘু মুসলিম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তবে মোদি সরকার ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ভুয়া, মৃত ও একাধিক স্থানে নাম থাকা ভোটার বাদ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাজধানীতে জড়ো হন। দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে খোলা বাসে করে রামলীলা ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করেন বিরোধী জোটের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেনÑ সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফারুক আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি, কল্পনা সোরেন, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউতসহ ইন্ডিয়া ব্লকের শীর্ষ নেতারা।

রামলীলা ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভোট চুরির মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। তিনি আরও বলেন, এটি সাধারণ কোনো চুরি নয়। দোকান থেকে কেউ কিছু চুরি করলে তাকে চোর বলা হয়। কিন্তু এখানে প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি করা হচ্ছে। আইনের ভাষায় একে বিরলতম অপরাধ বলা হয়। এটি রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। সমাবেশে উপস্থিত বিরোধী জোটের নেতাদের এবং সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি জানান, তারা নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে যে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তা পৌঁছে গেছে। রাহুল বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর নয়। এটি ভারতের তরুণ, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। তারা বলছেন, দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। আপনারা নিজেদের অনেক বড় ভাবতে পারেন, আপনাদের অর্থ থাকতে পারে। কিন্তু আপনারা সংবিধানের চেয়ে বড় নন। সংবিধান আপনাদের সবার ঊর্ধ্বে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, ভোট চুরির প্রতিবাদে এই সমাবেশ ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে। তার অভিযোগ, অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদিÑ নারী, তরুণ ও দলিতদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। খাড়গে বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার পদ ছাড়ার আগপর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। তিনি আত্মগোপন করলেও আমরা তাকে খুঁজে বের করব। এটাই আমাদের জনগণ, নারী ও তরুণদের শক্তি।’ সমাবেশে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবও জ্ঞানেশ কুমারকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, সাধারণত এই ময়দানে রামায়ণ পাঠ হয়। কিন্তু আজ এখানে মহাভারতের লড়াই চলছে। এই ময়দানকে কুরুক্ষেত্রে পরিণত করতে হবে।

পাল্টা কর্মসূচি বিজেপির : কংগ্রেসকে আক্রমণ করে পাল্টা সমাবেশ করছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার নিহতদের স্মরণে পাল্টা মিছিল করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, বিরোধীদের মিছিল গণতন্ত্রের প্রতি অসম্মান এবং এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাটক। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। জনগণ বিরোধীদের এই রাজনৈতিক নাটক বুঝতে পারছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিক্ষোভ ও পাল্টা সমাবেশ ঘিরে মধ্য ও নতুন দিল্লি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং দ্রুত পদক্ষেপকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত