বিশ্বে যেসব দেশ জিডিপির তুলনায় সবচেয়ে কম রাজস্ব আয় করে, সেসব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এর পরও রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, তা কোনো বছরই পূরণ হয় না। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও রাজস্ব ঘাটতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর পরও প্রতি অর্থবছরই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা।
অবশ্য লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি থাকলেও আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি রয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। এর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, বৈশি^ক মন্দার প্রভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো যাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি কিছু পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যরোধে রাজস্বে ছাড় দেওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি বেড়েছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি ২২ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা হয়েছে, যা গত জানুয়ারি মাসের চেয়ে ৫ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বেশি। এ মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এর পরিমাণ ১৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। এরপরই রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ঘাটতি ৫ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম ঘাটতি হয়েছে আয়কর ও ভ্রমণ করে ৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।
এনবিআরের ২০২২-২৩ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে ১ লাখ ১১ হাজার, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ এবং আয়কর ও ভ্রমণ করে ১ লাখ ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূসকে সবচেয়ে বেশি ৮২ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা, আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্বে ৭৩ হাজার ১৩ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ করে ৬৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। এ মাস পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূসকে সবচেয়ে বেশি ৭৬ হাজার ৪০১ কোটি টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৬০ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা এবং ৫৯ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায় থেকে।
এর আগের অর্থবছরে একই সময় পর্যন্ত আদায় হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূসকে ৬৬ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা, আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৫৬ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা এবং আমদানি ও রপ্তানি পর্যায় থেকে আদায় হয়েছে ৫৬ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এনবিআর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার প্রধান কারণ ডলার সংকট। বৈশি^ক মন্দার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছে।