পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পূর্ণিমার জোয়ার, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন সৈকত জামে মসজিদ, শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির, ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ বক্সসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ। তারা দ্রুত স্থায়ী উপকূল সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের টানা জোয়ার ও উত্তাল ঢেউয়ে সৈকতের বিভিন্ন অংশ থেকে বালু সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জোয়ারের সময় ঢেউ উপকূলের অনেক ভেতর পর্যন্ত আঘাত হানছে। এতে সৈকতের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরেই কুয়াকাটা সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিলেও এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে অবস্থিত সৈকত জামে মসজিদের সামনের বিস্তীর্ণ বালুচর ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। একইভাবে শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সামনেও ভাঙনের চিহ্ন দেখা দিয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের অস্থায়ী পুলিশ বক্সের নিচের মাটিও ধসে যেতে শুরু করায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, সৈকতের ভাঙন এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় সৈকতের পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামো, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনবসতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। আমরা অবিলম্বে টেকসই উপকূল সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রাসেল বলেন, মসজিদ, মন্দির ও পুলিশ বক্সের খুব কাছ পর্যন্ত পানি চলে আসছে। আমরা ব্যবসায়ীরা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছি। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে শুধু এসব স্থাপনাই নয়, আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন অবকাঠামোও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সৈকতের ভাঙন অব্যাহত থাকলে পর্যটন শিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মধ্যে পড়বে। তাই দ্রুত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।
কলাপাড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ভাঙনরোধে প্রায় ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সৈকত সংরক্ষণ, ভাঙন প্রতিরোধ ও পর্যটন এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।