মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে মামলার বাদী ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ১৪ জুলাই লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়ায় পাওনা টাকা চাইলে চাচাতো ভাই ও তার পরিবারের হাতে খুন হন মৃত ইছাক আলী শেখের ছেলে ইয়ার আলী শেখ। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই লৌহজং থানায় মামলা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২১ আগস্ট প্রধান আসামি ছাড়া বাকি পাঁচজন জামিনে বের হতে সক্ষম হন। তারা জামিনে এসে হৃদয় শেখকে (২৩) প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনার পরে গত রবিবার রাতে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হৃদয় ২৬ আগস্ট উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের ধাইরপাড়া কবরস্থান মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হলে মামলার ৪ নম্বর আসামি আকাশ শেখসহ বেশ কয়েকজন হৃদয়কে মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দেয়। একপর্যায়ে হুমকি-ধমকি দেন। পরে মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করেন।
হৃদয় শেখ বলেন, ‘আমাদের বাবাকে হত্যা করেছে। এখন আমাদের হত্যার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমাকে মেসেঞ্জারে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি পাঠাচ্ছে। সে ছবি-ভিডিওর দৃশ্য হাত-পা জখম, ব্যান্ডেজ করা। আমাদের পরিবারের কেউই রাস্তায় বের হতে পারছে না। বের হলেই আমাদের মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে।’
এ বিষয়ে লৌহজং থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত মাসে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে পাঁচজন জামিনে বাইরে আছে।
তিনি আরও বলেন, গত রবিবার রাত ৯টার দিকে হৃদয় শেখ থানায় এসে জানিয়েছেন, মামলার আসামিরা হত্যাসহ নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। পরে আমরা লিখিত অভিযোগ রেখেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই দুপুরে ইয়ার আলী শেখকে তার চাচাতো ভাই মোক্তার শেখ ও তার পরিবার পিটিয়ে হত্যা করে। এ সময় আহত হন বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় ওই দিনই মামলা করেন তার ছেলে হৃদয় শেখ।
