শিগগিরই পানি নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হোক চাই না হোক, আগামী দিনে তেল-গ্যাসের চেয়েও মুনাফার উপাদান হিসেবে পানি যে গুরুত্বপূর্ণ তা স্বীকার করেন বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা। পানি যে শুধু পানের জন্যই নয়, জীব বা মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার মূল উপকরণ, তা মিথ্যে নয়। মহাশূন্যে মৃত নক্ষত্রগুলোর বিষয়ে ভাবলেই বোঝা যায়সভ্যতার বিকাশ, নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ইত্যাদির কারণে বিশুদ্ধ পানীয়জলে টান পড়েছে। বিষয়টা সাধারণ মানুষ ততটা বুঝতে না পারলেও, পানি-বাণিজ্যের মুনাফাখোররা তা স্পষ্ট বোঝে। পৃথিবী তো বটেই, মহাশূন্যের গ্রহের পর গ্রহে ওরা বিজ্ঞান সাধনার নামে হন্যে হয়ে পানির অনুসন্ধান করছে। মহাশক্তিধর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প তো স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ গ্রিনল্যান্ডকে কিনে নেওয়ার কথাই বলে ফেলেছিলেন। এখানে রাজনৈতিক প্রশ্নে অপরাপর স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে বরফ-পানির বিষয়টিও জড়িয়ে আছে।
সুমেরু-কুমেরুর বিশাল ঠান্ডা-জমাট পানির অধিকার নিয়ে আমেরিকা আর ইউরোপ এরই মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। তাই লবণ-বিযুক্ত বিশুদ্ধ পানি আজ বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের বিপুল মুনাফার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরুদেশের কোটি বছর আগে জমাটবাঁধা বরফ গলতে শুরু করেছে। মাইলের পর মাইল দীর্ঘ হিমবাহ গড়িয়ে নামছে সমুদ্রে। ডুবন্ত এবং ভাসমান হিমবাহগুলো সমুদ্র স্রোতের টানে ভেসে আসছে। ব্রিটিশ এবং মার্কিন দেশের পানি ব্যবসায়ীরা সেসব টেনে আনছে আúন উপকূলের দিকে এবং সেসব তরল করে বোতলজাত করে বাজারে নামিয়ে কিংবা পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করে কামাই করছে বিপুল অর্থ। তেল-গ্যাসের মতো বিকল্প লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে এভাবে।
ভেঙে যাওয়ার পরও রাশিয়া বিশ্বে আয়তনের ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ রাষ্ট্র। দ্বিতীয় স্থান কানাডার। মার্কিনের জনসংখ্যা ৩০ কোটি, অথচ কানাডার জনসংখ্যা কমবেশি মাত্র দুই কোটি। জমাটবাঁধা জল আধুনিক অর্থনীতির বিবেচনায় কানাডার রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। এ সম্পদকে ওরা চেনে, মানে, জানে। স্বচক্ষে দেখলে বিস্মিত হতে হয় যে, কানাডা তার ভাঙনপ্রবণ মিঠাপানির উৎস নদী এবং হ্রদগুলোর তীর মূল্যবান ফসিল বা জীবাশ্ম-পাথর, যা তৈরি হয়েছে কোটি বছর আগে সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাবশেষ দিয়ে, বড় বড় চাঁই ফেলে সেসবের ভাঙন রোধ করেছে। সেসব পাথরের চাঁইয়ে নকশা এঁকে আছে সামুদ্রিক প্রাণীর চিহ্ন। কানাডার বরফগলা জলের একটি অংশ বিশাল বিশাল পাইপের মাধ্যমে মার্কিন সীমান্ত অতিক্রম করছে। কোটি কোটি ডলার আয় হচ্ছে খোদার দান সেই বিশুদ্ধ পানি থেকে। কানাডিয়ানরা ভাগ্যবান এ কারণেই যে, তাদের ভূখন্ডের চার ভাগের তিন ভাগই বরফ সম্পদে ঢাকা। আগামী বিশ্বে পানি-বাণিজ্যে তারাই থাকবে এগিয়ে। বিষয়টা জানে বলেই বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ মেরুদেশ বা ভূমি দখলের জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণার নামে, আবহাওয়া বিজ্ঞানচর্চার নামে বরফের দেশে লোলুপদৃষ্টি মেলে আছে। বরফসমৃদ্ধ দেশের সঙ্গে আগাম চুক্তিও করে রাখছে।
সৌদি আরবসহ গোটা আরব বিশ্বকে বিশুদ্ধ পানীয়জলের জন্য নির্ভর করতে হয় বহির্বিশ্বের ওপর। তেলের বিনিময়ে তাদের পানীয়জল আমদানি করতে হয়। সৌদি আরবে হজের সময় এর চাহিদা বৃদ্ধি পায় হাজার গুণ। ভারতসহ অপরাপর দেশ এই পানি-বাণিজ্যে যুক্ত। শুধু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই নয় অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেও এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পাইপ লাইনের বদলে, তৈল ট্যাংকারের বদলে পানির ট্যাংকার ছুটে চলে রেলপথ ধরে। এমনটা ঘটে ভারতের খরাকবলিত বহু প্রদেশে। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো বিনে পয়সায় নদী (নীল নদ) এবং ভূগর্ভ থেকে পানি তুলে অধিক মূল্যে তা জনগণের কাছে বিক্রি করে। এটা চরম ও পরম সত্য যে আগামী বিশ্বে মিঠাপানির আকাশ-পাতাল নদী-হ্রদ সব উৎসই দখলে নেবে পানি সাম্রাজ্যবাদ।
এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, বিশ্ববাসী উচ্চফলনশীল শস্যের বীজ আবিষ্কারক বিজ্ঞানী এবং বাজার বিপণনকারীদের কাছে ঋণী। এ আবিষ্কার না হলে বা বীজ-বাণিজ্য না ঘটলে, এত দিনে পৃথিবীর মানবসভ্যতা দুর্ভিক্ষে মরে সাফ হয়ে যেত। অন্যদিকে কৃত্রিম তন্তু আবিষ্কার না হলে আজ বিশ্বের সাত শতকোটি মানুষের মধ্যে সাড়ে ছয়শ কোটি মানুষকে বিবস্ত্র বা ন্যাংটা থাকতে হতো। এটাও তো বাস্তব সত্য যে খাদ্য আর বস্ত্রের বিনিময়ে তারা বিশ্ব মানবকে শোষণে-পেষণে পঙ্গু বানিয়ে রাখছে। খাদ্যপুঁজি আর বস্ত্রপুঁজি মানুষের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রকে হরণ করবে, প্রতিবাদ করলে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেবে, এ তো সভ্যতার কথা নয়! পৃথিবীতে মানুষের জন্ম কি শোষিত, পদদলিত আর অসম্মান-অপমানিত হওয়ার জন্য?
এ কথা ভাবলে বিস্মিত হতে হয় যে, বিশ্ব পুঁজিবাদ কীভাবে দরিদ্র তৃতীয় বিশ্বের মূল্যবান পানিসম্পদকে লুণ্ঠন করছে। মহাকৌশল তাদের। ধনী দেশগুলো শস্য উৎপাদন করে না। তৃতীয় বিশ্ব থেকে আমদানি করে। তারা ধান, চাল, গম, শাকসবজি কোনো কিছুই উৎপাদন করে না। নিজেদের জলসম্পদকে তারা সংরক্ষণ করে। নদী-হ্রদের জল থেকে শুরু করে ভূগর্ভের জল খুব হিসাব কষে খরচাপাতি করে। কৃষির নামে, জলসেচের অজুহাতে মাতৃভূমির বুকের রক্ত চুষে শুষে খায় না। জলসেচ কম লাগে এমন শস্যই তারা ফলায়। আমেরিকা সুস্বাদু সাগর কলা নিজেরা উৎপাদন না করে নামমাত্র মূল্যে পাশর্^বর্তী দরিদ্র দেশ পানামা, হন্ডুরাস প্রভৃতি দেশ থেকে আমদানি করে। কেননা কলাগাছ বিপুল পরিমাণ জলপান করে। রাক্ষুসে তৃষ্ণা তাদের।
টেক্সাসের মতো গরম প্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রচুর পরিমাণ ধান-চাল উৎপাদন হয়। উচ্চ ফলনশীল ধানবীজ আবিষ্কারের ফলে সেসব রাজ্যে প্রচুর চাল উৎপাদন হলেও চাষ খুব একটা হয় না। কেন হয় না? উৎপাদন খরচ অধিক যেমনি সত্য, তেমনি সত্য ওই ধানগাছ অধিক জলখেকো তৃণ। কৃষিবিজ্ঞানীরা হিসাব কষে দেখেছেন এক কিলোগ্রাম হাইব্রিড চাল উৎপাদন করতে কমসেকম চার হাজার লিটার জলের প্রয়োজন। সেই জল শুষে নিতে হয় ভূগর্ভ থেকে। ভূগর্ভ জলশূন্য হয়ে যায়। তা ছাড়া বিজ্ঞানের নব্য আবিষ্কার হচ্ছে জিএম ফুড বা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ফুডের বীজ। পোকামুক্ত অধিক ফলনশীল বেগুন মানেই জিএম বীজ। প্রাণীর জিনের সঙ্গে উদ্ভিদের জিনের সংমিশ্রণে এই বীজ উদ্ভাবন করা হয়েছে, এমন গুজব বা সংস্কারের কারণে কোনো কোনো দেশের খাদকরা আগে এই খাদ্য গ্রহণ না করলও বর্তমানে তা আর অচ্ছুৎ নয়। এই জিএম খাদ্যবীজ বা উদ্ভিদ-বৃক্ষবীজ জাতকরা অকল্পনীয় পানি পান করে বেঁচে থাকে। তারাই ভূপৃষ্ঠের এবং ভূগর্ভের জল খেয়ে সাফ করে দেয়। এভাবেই পুঁজিবাদ তার সর্বোচ্চ মুনাফার জন্য উচ্চ ফলনের নামে ভূপৃষ্ঠ আর ভূগর্ভের জলকে সাবাড় করে দেয়।
বিশ্ব আবহাওয়ার বদল ঘটেছে। উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে। ভূগর্ভে জল সঞ্চিত হচ্ছে না। ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশ্ব মানচিত্রে খরাপ্রবণ বা মরুপ্রবণ ভূমি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। বিনা বর্ষায় আষাঢ়-শ্রাবণ চলে গেল। বাঙালিরা হতচকিত। ওই যে সুজলা-সুফলার মিথ বাঙালির মননে লেপ্টে আছে তাতে ছেদ পড়েছে। বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলমান বাঙালি মনন ‘বিষাদ সিন্ধু’ মহাকাব্যের প্রভাবেই খরা-অনাবৃদ্ধির দিনে কারবালার স্মৃতিতে ডুবে যায়। ভয় পায়। তাদের এই পিপাসাভীতির মূলে রয়েছে পুঁজিবাদী শোষণ। মুনাফাখোর পুঁজিবাদ বাঙালির জলসম্পদকে জবরদখলে নিয়ে গেছে। খোদার দান এই পানির অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। ৫০-তলার আকাশছোঁয়া আবাসন ভূগর্ভের তরল স্রোত গিলে নিয়েছে। শিল্পপতিরা শিল্পায়নের নামে বিনেপয়সায় নদীর জল আর ভূগর্ভের জল চুষে নিচ্ছে। বহুজাতিক কোম্পানি নদী আর ভূগর্ভের কোটি কোটি লিটার স্বাদুজল একেবারে মাগনা তুলে নিয়ে বানাচ্ছে কোকাকোলা। তাদের ঋণ দেওয়া পুঁজিতে দেশীয় শোষকরা বিশুদ্ধ পানীয়জলের নামে জাতীয় সম্পদ প্রাকৃতিক জলকে বিনেপয়সায় বোতলবন্দি করে মিনারেল নাম দিয়ে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে।
কত জল লাগে নির্মাণকাজে? নিশ্চয়ই কোটি কোটি লিটার। সেই জল কি স্থপতিদের কোম্পানিগুলো পয়সা দিয়ে কেনে? এই যে পোশাকশিল্প নিয়ে বাঙালির এত বড় গলা, তাকে একটি শার্ট আর প্যান্ট তৈরিতে কী পরিমাণ জল লাগে? জলের দাম কি বিদেশি ক্রেতারা দেন? এটা কি অন্যায় বলা হবে যে, উন্নয়নের নামে, বিনিয়োগের নামে বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজি যে পরিমাণ পানি চুরি বা ডাকাতি করছে তা অবশ্যই রাষ্ট্রীয় অপরাধ। তেল-গ্যাস যেমনি জাতীয় সম্পদ, ঠিক তেমনি সম্পদ আকাশ থেকে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়া এক বিন্দু পানিও।
‘আমরা চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করি’নেতারা এমন দাবি বুক চিতিয়ে বলে বেড়ান। একবার কি আমরা ভেবে দেখব এক কেজি চাল রপ্তানির সঙ্গে একেবারে বিনেপয়সায় কত লিটার মিষ্টি পানি আমরা বিদেশিদের দিয়ে দিই? মিষ্টি পানির সঙ্গে লবণ মিশিয়ে ওই যে আমরা বিদেশিদের জন্য ইঁচা মাছ উৎপাদন করি কৃত্রিম লোনা জলাশয় বানিয়ে, তাতে কতটা লাভ? অর্থনীতির এই শুভংকরের ফাঁকি একশ থেকে শত গেলে কত থাকে বাকি?
বাঙালির সবই তো গেল লুটেপুটে, বাকি ছিল পানি। বাঙালির পানির লড়াইটা শুধু ফারাক্কা আর তিস্তা নয়, সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ভূগর্ভের পানির অধিকারকেও। পুঁজিবাদী মুনাফার রাক্ষুসে থাবা থেকে মুক্ত করতে হবে মিঠাপানির সম্পদকে। নগর এবং গ্রামের নব্বই ভাগ মানুষ, অবশ্যই দরিদ্র মানুষ, বিশুদ্ধ পানীয়জল থেকে বঞ্চিত। ভূগর্ভের যে পানি নগরের ম্যাম সাহেবরা অপচয় করে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল টাববাথে, সুগন্ধি সাবানের সঙ্গে তার শতাংশের অধিকার কি দরিদ্র বস্তিবাসীর নেই?
বর্ষা কিংবা প্রবল বৃষ্টিতে নগরের পথে যখন বর্জ্য মেশানো পানি থই থই করে তখন বস্তিবাসী শিশুদের জলকোলাহলের গভীর অর্থটা কী? ওদের রক্তে যখন উন্মাদনা জাগায় বৃষ্টি আর মেঘের গর্জন, ওরা মুক্তির আনন্দ খোঁজে ইশ্বরের দেওয়া জলে। বস্তিজীবনের বঞ্চনা ক্ষণকালের জন্য হলেও ওরা ভুলে যায়। জীবনের সব প্রাপ্তি যেন ঘটে ওই রাজপথের জলে কিংবা দ্রুত ছুটতে থাকা ভদ্রলোকের গাড়ির টায়ারে আঘাতে তাদের উদোম গায়ে ছিটকে পড়া ক্ষণস্থিতির জলে। অথচ জলের অধিকার যে ইশ্বর তাদের দেননি।
ওই পথশিশু আর বস্তির শিশুরা তো পুঁজিবাদেরই সৃষ্টি। ওদের পিতা-মাতা, সবাই পুঁজিবাদের শিকার। ওই হতভাগ্য দরিদ্র শিশু, তার পিতা-মাতা জানে না পানি সাম্রাজ্যবাদ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পানিসম্পদকে কীভাবে কুক্ষিগত করেছে। পুঁজিবাদ তথা সাম্রাজ্যবাদ, সাত সমুদ্র তেরো নদী সেই কবেই তাদের করতলগত। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে, জলসেচের নামে, বিদ্যুৎ উৎপাদন আর পানীয়জল সরবরাহের নামে, কৃষি-শিল্প উন্নয়নের নামে পানি আজ পুঁজিবাদের দখলে চলে গেছে। পানিকে কীভাবে বাণিজ্যের পণ্য বানানো যায়, সাধারণ মানুষ না জানলেও জানে পুঁজিবাদ। ‘পানির মতো সস্তা’এই প্রবচন কবে যে বাতিল হয়ে গেছে, অকাট্য মিথ্যে হয়ে গেছে, হয়তো বাঙালি আজও জানে না। সেই জানা-জানিটাই আজকের বড় কাজ।
লেখক: কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক