চীনের আপত্তি ও পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ উপেক্ষা করেই সুনামি-বিধ্বস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে নিষ্কাশন শুরু করেছে জাপান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর পাম্পের সাহায্যে নিষ্কাশন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এদিন এক ঘোষণায় পাম্প খুলে দেওয়ার বিষয়টি জানায় ফুকুশিমা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনা সংস্থা টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো)। রাজধানী টোকিও থেকে এক ভিডিও বার্তায় টেপকো কর্মকর্তারা জানান, ‘এখন পানি নিষ্কাশন পাম্পগুলোর কাছের ভালভগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে।’
এ সময় সেখানে জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনে’র (আইএইএ) একটি বিশেষজ্ঞ দল উপস্থিত ছিল। এদিকে জাপানের এই পদক্ষেপে ক্ষোভে ফুঁসছেন পরিবেশপ্রেমীরা। রীতিমতো বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।
ফুকুশিয়ার তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলার প্রতিবাদ জানিয়েছে জাপানের নাগরিকদের একাংশ। তেজস্ক্রিয়তার আশঙ্কায় প্রবল আপত্তি জানিয়েছে চীনও। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তাৎক্ষণিকভাবে জাপান থেকে সব ধরনের সিফুড আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। চীন আগে থেকেই ফুকুশিমা ও আশপাশের কয়েকটি প্রিফেকচার থেকে সমুদ্রজাত খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করে রেখেছিল, এবার নিষেধাজ্ঞা বিস্তৃত করে পুরো জাপানকেই এর আওতায় নিয়ে এলো।
এক বিবৃতিতে চীনের এক শুল্ক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘চীনে রপ্তানি করা জাপানি খাদ্য ও কৃষিপণ্যে তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকির বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
শুরু থেকেই জাপানের পরিশোধিত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পানি মহাসাগরে ফেলার এই পরিকল্পনার দৃঢ় বিরোধিতা করছে চীন। নিজেদের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তারা বলেছে, এই পানি মহাসাগরে ফেলার বৈধতার কোনো প্রমাণ দেয়নি জাপান সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, ‘জাপানি পক্ষের উচিত না নিজেদের স্বার্থপর উদ্দেশ্যে স্থানীয় জনগণ এবং বিশ্ববাসীর ক্ষতি করা।’ এর জবাবে উল্টো ‘বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন দাবি’ ছড়ানোর জন্য চীনের সমালোচনা করেছে জাপান।
বার্তা সংস্থা এপিকে কিম মিজেওং নামে এক দক্ষিণ কোরীয় বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সিফুড খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে। আসলে আমরা সিফুড খেতেই পারব না। আমি জাপানের পরিকল্পনা মানতে পারছি না। একেবারে বিচার-বিবেচনা ছাড়া এসব করছে তারা।’
এপি বলছে, শুধু এই সাধারণ কোরীয় নন, সমুদ্রে তেজস্ক্রিয় পানি ছাড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরাও।
তারা বলছেন, সাগরে ঢেলে দেওয়া ফুকুশিমার পানি অবশ্যই পরিবেশ এবং মানবশরীরে প্রভাব ফেলবে, এটা এড়ানোর পথ নেই।’ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়াও জাপানের সিফুড আমদানি নিষিদ্ধ করছে হংকং ও ম্যাকাউ। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাপানের এই পদক্ষেপকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
