মাদক, বিস্ফোরক বা লুকিয়ে রাখা কোনো জিনিস খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখনো প্রযুক্তির চেয়ে তাদের প্রশিক্ষিত কুকুরের ওপর বেশি ভরসা রাখেন। এ জন্য একটি কুকুরকে ছোটবেলা থেকেই পরম যতে্ন প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। মাদক, বিস্ফোরকের পাশাপাশি তাকে পরিচিত করা হয় অপরাধীর গায়ের গন্ধের সঙ্গেও। তাই মাদক কারবারি থেকে শুরু করে খুনের আসামি ধরতে পুলিশের বড় ভরসা কুকুর। কিন্তু এবার একই কুকুরই ব্যবহৃত হচ্ছে পুলিশের বিরুদ্ধে! সে জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে কুকুরকে!
এনডিটিভির এক খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এমনই এক কুকুর ও তার মাদক কারবারি মালিকের মুখোমুখি হয়েছিল ভারতের কেরালা রাজ্যের পুলিশ। এনডিটিভি বলছে, ঘটনাটি গত রবিবারের, রাজ্যের কোত্তায়াম শহরে। ওই দিন শহরের সন্দেহভাজন এক মাদক কারবারির ওপর নজর রাখছিলেন পুলিশ সদস্যরা। রবিবার হুট করেই তার বাসায় অভিযান চালালেন তারা। তবে দেখা দেয় উল্টো বিপত্তি। কারণ, ওই বাড়িতে থাকা পোষা কুকুরগুলোর হামলায় নাজেহাল হতে হয় তাদের। এরই ফাঁকে পালিয়ে যান মাদক কারবারি।
পুলিশ জানায়, পরে তারা বুঝতে পারে, আসলে কুকুরগুলোকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রশিক্ষণের ফলে পুলিশের খাকি রঙের পোশাকে কাউকে দেখলেই কামড়ানোর জন্য তেড়ে যায় সেগুলো। রবিবার তাদের সঙ্গেও তেমনটা ঘটেছে।
পুলিশ বলছে, তবে ওই কারবারি পালালেও তার বাসা থেকে ১৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
কোত্তায়াম জেলার পুলিশ সুপার কে কার্তিক বলেন, আমরা আশা করিনি সেখানে অতগুলো কুকুর থাকবে। আর সেগুলো এতটা হিংস্র হবে। এ কারণে, তল্লাশি করতে গিয়ে আমাদের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ভাগ্য ভালো যে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আহত হননি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ওই ব্যক্তি কুকুরগুলোকে খাকি রঙের পোশাকে কাউকে দেখলে কামড়ানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে কুকুর দেখভালের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চালানোর সময় ওই বাড়িতে প্রায় ১৩টি কুকুর ছিল। সেগুলোকে বশে আনা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এলাকায় কুকুর প্রশিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাই অনেকে তাদের পোষা কুকুরগুলো তার কাছে রেখে যেতেন।
