জেসিন্ডার অবাক বিদায়

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:০৩ এএম

নিউজিল্যান্ডের ৪০তম প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। এ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আকস্মিক ঘোষণা দেন, যা বিস্মিত করেছে সবাইকে। লেবার পার্টির এই নেতা বিশ^ রাজনীতির মঞ্চে প্রগতিশীলতার যেন এক মূর্ত প্রতীক। লিখেছেন নাসরিন শওকত

পদত্যাগের ঘোষণা

প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শান্তিপ্রিয় দেশ নিউজিল্যান্ড। যেখানে বর্তমানে জীবনযাপনের বাড়তি খরচ, ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা, অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি, রক্ষণশীল বিরোধীদের পুনরুত্থান এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রতি জনগণের আস্থা আগের চেয়ে কমেছে। তাই রাজনীতিতে বইছে প্রতিকূল হাওয়া। এরই মধ্যে ১৯ জানুয়ারি আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। যে ঘোষণা বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে যেমন  অবাক করেছে, তেমনি হতবাক হয়েছেন তার নারী অনুরাগীরা। দুই মেয়াদে পাঁচ বছর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থাকেন জেসিন্ডা।  ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এমপি থাকবেন। এরপরই তার নতুন জীবনের পথ চলা শুরু হবে।

তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, জেসিন্ডার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি রাজনীতির হিসাব রয়েছে। ক’দিন আগে পার্লামেন্টের ককাস অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জেসিন্ডা। কাঁপা গলায় এদিন পুনরায় নির্বাচনে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ৪২ বছর বয়সী জেসিন্ডা বলেছেন, ‘আর নয়, অনেক হয়েছে। তিনি একজন মানুষ। রাজনীতিবিদরাও মানুষ। তারা যত দিন পারেন, নিজেকে উজাড় করে দিয়েই কাজ করেন। তারপর সময় হলে সরে দাঁড়ান। এখন তার সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে।’  সে-সময় তার বক্তব্যে একজন রাজনীতিককে তার ব্যক্তিগত জীবনে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, তা স্পষ্ট ফুটে ওঠে। জেসিন্ডা আরও বলেছেন, ‘তিনি সাড়ে পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তার জীবনের সবচেয়ে সার্থক সময়। তবে এ সময় নানা চ্যালেঞ্জও ছিল।’  তবে তার পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক হিসাব সম্পর্কে অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতির কারণে পরবর্তী নির্বাচনে নিজের ও তার দলের লজ্জাজনক পরাজয় হোক, তা চাইছেন না জেসিন্ডা আরডার্ন। তাই এমন পরিস্থিতিতে নিজের সম্মান রক্ষার্থেই হয়তো পদ ছেড়েছেন তিনি। জেসিন্ডা আরডার্ন বিশ^ রাজনীতি মঞ্চের সেই বিরল নেতাদের একজন, যিনি সেই মঞ্চে নিজেকে দ্বিতীয়বার ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে ছেড়ে চলে যাওয়াকেই সঠিক পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এ বছরের ১৪ অক্টোবরে নিউজিল্যান্ডে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। ১৯৯৬ সালে মিক্সড মেম্বার প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (এমএমপি) নামে পরিচিত একটি সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হয়। এর পর থেকে নিউজিল্যান্ডে কোনো দলই সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে নানা জনমত জরিপ হয়েছে। যেখানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল ন্যাশনাল পার্টির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে লেবার পার্টি তাদের নতুন নেতাও নির্বাচিত করেছে।

জেসিন্ডা আরডার্ন

১৯৮০ সালের ২৬ জুলাই নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডের শহর হ্যামিলটনে জন্ম নেন। পুরো নাম জেসিন্ডা কেট লরেল আরডার্ন। তারা বাবা রস আরডার্ন ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। আর মা লরেল আরডার্ন স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। মরিনসভিল ও মুরুপাড়ার গ্রামীণ পরিবেশে জেসিন্ডার বেড়ে ওঠা। তার শৈশবের সেই সময় কাটে জেসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্ট চার্চে। স্কুলে পড়ার ওই সময়ে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হন। পাশাপশি একটি মাছের দোকানেও কাজ করেন। জেসিন্ডা পরবর্তী সময়ে মরিনসভিল কলেজে পড়াশোনা করেন। নিজের ন্যায়পরায়ণতা ও সহানুভূতিশীল মনোভাবের জন্য বাবা-মা ও গ্রামীণ জীবনকে বারবার কৃতিত্ব দেন। জেসিন্ডার এই আদর্শ এবং সরল ও বিনয়ী স্বভাব তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব রেখেছে। খুব অল্প বয়স থেকেই তিনি শিশুদের বৈষম্যের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং একজন বিবেকবান ব্যক্তি হিসেবে গড়ে ওঠেন, যা তাকে অন্যায়ের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে।

জেসিন্ডার যখন বয়স ১৭, তখন তিনি লেবার পার্টিতে যোগ দেন। তার খালা মেরি আরডার্ন লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় ছিল তখন। তিনি নিউ প্লাইমাউথ এমপি হ্যারি ডুইনহোভেনের হয়ে পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় তাকে সহযোগিতা করার জন্য জেসিন্ডাকে লেবার পার্টিতে নিয়ে আসেন। এই অভিজ্ঞতা জেসিন্ডার পরবর্তী নেতৃত্বের পথ তৈরি করতে ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে সহায়তা করেছিল। জেসিন্ডা ওয়াইকাটো বিশ^বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকে ২০০১ সালে কমিউনিকেশন স্টাডিজ ও জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিন বছরের একটি বিশেষজ্ঞ ডিগ্রিও লাভ করেন।

পেশাগত ও রাজনৈতিক জীবন

বিশ^বিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার পর পরই ঘটনাক্রমে জেসিন্ডা রাজনীতিবিদ ফিল ব্রুস গফ ও নিউজিল্যান্ডের ৩৭তম প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের দপ্তরে গবেষক হিসেবে কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের দপ্তরের দায়িত্ব শেষ হলে জেসিন্ডা কিছুদিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সময় কাটান। এ সময় তিনি শ্রমিকদের অধিকারের প্রচারণা নিয়ে কাজও করেন। ২০০৬ সালে তিনি লন্ডনে আসেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মন্ত্রিসভার দপ্তরে যোগ দেন একজন জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা হিসেবে। এ সময়ের দিকেই জেসিন্ডা রাজনীতিতেও জড়িয়ে পড়েন। নিজেকে বারবার সামাজিক গণতন্ত্রপন্থি ও একজন প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ২০০৮ সালে ডমিনিকান রিপাবলিকের কংগ্রেসের সোশ্যালিস্ট ইয়থ গ্রুপের আন্তর্জাতিক ইউনিয়নের (আইইউএসওয়াই) সভাপতি নির্বাচিত হন দুই বছরের জন্য। সেখান থেকে দায়িত্ব শেষে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন ও নিউজিল্যান্ডের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এর আগে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নিউজিল্যান্ডে। লেবার পার্টির তালিকাভুক্ত নেতা হিসেবে সর্বকনিষ্ঠ এমপি হয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন জেসিন্ডা আরডার্ন। ২০১৭ সালে ৭ মার্চ জেসিন্ডা লেবার পার্টির উপনেতা নির্বাচিত হন। সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র সাত সপ্তাহ আগে লেবার পার্টির ইতিহাসে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধান নেতা হন। একই সঙ্গে পার্লামেন্টে বিরোধী নেতার আসনে বসেন।

বৈশ্বিক ‘মূর্ত প্রতীক’

২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় নিউজিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচন। চারদিকে তখন ‘জেসিন্ডা ম্যানিয়ার’ ঢেউ। সেই নির্বাচনে মনপ্রাণ উজাড় করে দিয়ে তিনি নারীর অধিকার, শিশু দারিদ্র্য নিরসন ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এ নির্বাচনেই মাত্র ৩৭ বছর বয়সে জেসিন্ডা আরডার্ন নিউজিল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এমনকি সেই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী নারী সরকারপ্রধান হওয়ারও নজির গড়েন তিনি। তারপর অভ্যন্তরীণ নানা সংকটময় মুহূর্ত ও বৈশ্বিক মহামারীর মুখোমুখি হয়ে শিগগিরই দেশের নেতা হিসেবে পরীক্ষা দেন। যে সংকটের মধ্যে ছিল শান্তিপ্রিয় নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ ও করোনা মহামারী মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মেয়াদেই সন্তানের জন্ম দিয়ে নিজের নেতৃত্বকে সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃঢ় হাতে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন জেসিন্ডা। তখন তিনি মানসিক বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে বিশেষ করে সহানুভূতি দেখিয়ে  সাধারণ জনগণের কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন এবং সহকর্মী ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। জেসিন্ডার এই সময়ের ন্যায়পরায়ণতার দর্শন, পরমর্শদাতার ভূমিকা, চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা তার নেতৃত্বকে শক্তিশালী করে তোলে, যা তাকে দেশের ভেতরে একজন খাঁটি বলিষ্ঠ নেতার পরিচয় এনে দিয়ে করে তোলে ব্যাপক জনপ্রিয়। বিশেষ করে নারীদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন আদর্শ। ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেন জেসিন্ডা আরডার্ন। করোনা মহামারীর সফলতা খুব সহজেই এ নির্বাচনে জয় এনে দেয় তাকে।

বিশ্বে এমন নেতাও আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকেন, বিদ্রোহী সহকর্মীরা যাদের জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করে, নিজ দল থেকে প্রত্যাখাত হন যারা, ভোটাররা যাদের পরিত্যাগ করেন, এমনকি তারা নির্বাচনে হেরে গেলেও, কোনোমতেই তা স্বীকার করতে  চান না। বারোমাসই তারা ফিরে আসার চক্রান্ত করেন বা ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য স্বৈরাচারের আশ্রয় পর্যন্ত নেন। কিন্তু জেসিন্ডা আরডার্ন এমন এক নেতা, যিনি ভবিষ্যতের জন্য ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতেই সরে আসেন সেখান থেকে। তার এই আত্মসচেতনতা বিশ^ রাজনীতির মঞ্চে তাকে প্রগতিশীল রাজনীতির ‘মূর্ত এক প্রতীক’ বা ‘আইকন’ হিসেবে  ব্রান্ড করে তুলেছে। এটি এমন একটি সময়ে ঘটেছে,  যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমিসর্বস্ব জনপ্রিয়তাবাদ’-এর স্টাইল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

সন্ত্রাসী হামলা ও করোনা মহামারী

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ৫১ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হন। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা হামলাটিকে দ্রুত ‘সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে বিশে^র প্রতি মানবিক ঐক্যের আহ্বান জানান। হামলার পরদিনই তিনি মাথায় স্কার্ফ পরে ক্ষতিগ্রস্ত মুসলিম পরিবারগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তখন ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন ও আশ্বস্ত করেন পুরো দেশ ‘তাদের এই শোকে শামিল রয়েছে।’ ভুক্তভোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হন জেসিন্ডা। নিউজিল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্র আইনে সংস্কার ও অনলাইনে ঘৃণা ছড়ানো ঠেকাতেও জোরালো পদক্ষেপ নেন। জেসিন্ডা তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সবাইকে তাক লাগিয়েও দেন। সহানুভূতি ও দৃঢ়তার মিশেলে তার নেতৃত্বের এই গুণে তখন মুগ্ধ হয় সবাই।

এরপর আসে কভিড-১৯ মহামারী। বিপর্যয়কর এই মহামারী মোকাবিলায় বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন জেসিন্ডা। যার ফলে তার দেশ নিউজিল্যান্ড কভিডে সর্বনিম্ন মৃত্যুর তালিকায় থাকা অন্যতম দেশ ছিল। যা তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন প্রশংসায় ভাসিয়েছিল তেমনি বিশ্বের সবচেয়ে স্বীকৃত নেতাদের কাতারে এনে দাঁড় করায়। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে তার সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেজ বলেছেন, ‘সহানুভূতি ও অন্তর্দৃষ্টি যে নেতৃত্বের শক্তিশালী গুণ তা পালন করে দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি (জেসিন্ডা আরডার্ন)।’

কিন্তু ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে প্রায় তিন দশকের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সেই সঙ্গে বাড়ে অপরাধ প্রবণতা। ফলে বেশ কিছু বিষয়ে ক্রমে দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিভক্তি দানা বাঁধতে থাকে।

পারিবারিক সময়

একজন রাষ্ট্রপ্রধান পরিবারের ঊর্ধ্বে নন। রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাকেও পরিবারের দিকে মনোযোগ দিতে হয়। জেসিন্ডা আরডার্নও এর ব্যতিক্রম নন। সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিউজিল্যান্ডের দায়িত্ব নেন তিনি। আবার রাষ্ট্রপ্রধানের কাজের চাপ সামলিয়ে সন্তান লালনপালনও করেন। এই দুই দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে হয়তো বেশ চাপে ছিলেন জেসিন্ডা। তবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে জেসিন্ডা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব কঠিন বলে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন, বিষয়টি তেমন নয়। তিনি বিশ^াস করেন, সুযোগ দেওয়া হলে অন্যরা এই দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারবে। এ সময় তিনি তার পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তির প্রতি তার দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। এ বছরই তার মেয়ে নেভ স্কুলে যাওয়া শুরু করবে। তাই একজন মা হিসেবে তিনি মেয়ের স্কুল শুরুর সময় তার পাশে থাকতে চান। সেই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লার্ক গ্যাফোর্ডকে বলেছিলেন যে, তাদের বিয়ের এখন সময় হয়েছে। জেসিন্ডা নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেন ২০১৭ সালে। এর আট মাসের মাথায় সন্তানের জন্ম দিয়ে বিশ^ময় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হন। নেতৃত্বের বিশেষ ধরন ও কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে কখনো কখনো সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে নন্দিত এই রাজনীতিককে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত