পেন্টাগনের গোপন নথি ফাঁসের নেপথ্য কারিগর

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৩, ০১:০৫ এএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের বেশ কিছু সামরিক ও গোপনীয় নথি ফাঁস হয় সম্প্রতি। বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দেওয়া এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন দেশটির বিমান বাহিনীর ন্যাশনাল গার্ডের ২১ বছর বয়সী সন্দেহভাজন এক সদস্য। লিখেছেন নাসরিন শওকত

গোপন নথিতে যা রয়েছে

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন কাউন্টিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগন। অত্যাধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়ে সুরক্ষিত এই দপ্তর থেকে সম্প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় কিছু সামরিক নথি ফাঁস হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন ম্যাগাজিন ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, আশ্চর্যজনক ফাঁসের এই ঘটনা কয়েক দশকের মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সুরক্ষার সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে। যা একদিকে যেমন ইউক্রেন, রাশিয়া, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত গোপনীয়তাকে সামনে তুলে ধরেছে, অন্যদিকে তেমনি মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির পদ্ধতির বিশদ বিবরণ প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষ ও মিত্রদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তির তথ্যও সবার সামনে নিয়ে এসেছে। খোদ পেন্টাগন ফাঁসের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো, নথিগুলো কয়েক মাস ধরে অনলাইনে ঘোরাফেরা করলেও ৬ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত এর ফাঁস সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না মার্কিন কর্মকর্তাদের।  দেশটির সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট গত বুধবার রাতে সবার আগে ‘থাগ শেকার সেন্ট্রাল’-এর চ্যাটগ্রুপে নথি ফাঁস নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা সবার নজর কাড়ে। এরপরই মার্কিন বিচার বিভাগ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। এর সঙ্গে তদন্ত চালায় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। এর এক সপ্তাহের মধ্যে (১২ এপ্রিল) দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই সন্দেহভাজন নথি ফাঁসকারী হিসেবে দেশটির ২১ বছর বয়সী বিমান বাহিনীর ন্যাশনাল গার্ড জ্যাক ডগলাস টেক্সেইরাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমস তার পরিচয় প্রকাশ করে। মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ফাঁস হওয়া নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের পাশাপাশি শত্রুদের গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও নজরদারির মূল্যবান তথ্য রয়েছে। কিছু নথিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের পর্যালোচনাকে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা, সশস্ত্র বাহিনী, ব্যাটালিয়নের আকার এবং যুদ্ধের অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বিভাগ কীভাবে সাড়া দেবে এ বিষয়গুলো ধরা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া দাবি করে আসছে, তারা শুধু ইউক্রেনই নয়, ন্যাটোর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করছে। মস্কোর এই দাবিকে সত্যি প্রমাণ করে গত ২৩ মার্চ প্রকাশিত ইউক্রেন যুদ্ধসংক্রান্ত স্পর্শকাতর একটি নথিতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের ভেতরে সক্রিয় রয়েছে বিশেষ পশ্চিমা বাহিনী। তবে সেখানে এসব বাহিনীর কর্মকাণ্ড বা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। অতি গোপনীয় আরেক নথিতে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার চিত্রও রয়েছে। এমনকি উঠে এসেছে মিত্র দেশ তুরস্ক, ইসরায়েল ও দক্ষিণ কোরিয়ার এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ও জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের ওপর নজরদারি চালানোর তথ্যও। বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই নথি ফাঁস একদিকে যেমন মার্কিন কর্মকর্তা, কংগ্রেস সদস্য ও এর মিত্রদের বেকায়দায় ফেলে, অন্যদিকে তেমনি দেশটির রাজনীতিবিদরা বাইডেন প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তোলেন। এ নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জ্যাক টেক্সেইরা

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটসের এক সামরিক পরিবারে ২০০১ সালে (তার জন্মের সাল নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি) জন্ম হয় জ্যাক ডগলাস টেক্সেইরার। পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত এই তরুণ দেশটির বিমান বাহিনীর ন্যাশনাল গার্ডের একজন সদস্য। তার দাদা অ্যাজোরোস সাও মিগুয়েল দ্বীপ থেকে অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। সৎ বাবা মার্কিন বিমান বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মাস্টার সার্জন। মা ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান্স সার্ভিসে কাজ করেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণদের নিয়ে কাজ করা এক অলাভজনক সংস্থার কাজের সঙ্গেও জড়িত তিনি।

টেক্সেইরা ২০২০ সালে নর্থ ডাইটনের রেহোবোথ হাইস্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এর এক বছর আগে, ২০১৯ সালে তিনি ম্যাসাচুসেটস বিমান বাহিনীর ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য হন।  যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর এই রিজার্ভ ইউনিটের ১০২তম গোয়েন্দা উইংয়ে যোগ দেন তখন। তার পদবি ছিল ‘সাইবার ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম জার্নিম্যান’। সাইবার ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমে যারা কাজ করেন, তাদের দায়িত্ব বিমান বাহিনীর বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা। অর্থাৎ, টেক্সেইরা একজন আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতেন সেখানে। গত জুলাইয়ে ম্যাসাচুসেটসের ওটিস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড ঘাঁটির এয়ারম্যান ফার্স্ট ক্লাস (জুনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তা) হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। ওয়াশিংটন পোস্ট মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছে যে, এ ছাড়াও টেক্সেইরার বিশ^ব্যাপী যৌথ গোয়েন্দা যোগাযোগব্যবস্থায়ও প্রবেশাধিকার ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরীণ এই ব্যবস্থায় শীর্ষ গোপনীয় তথ্যের একটি ভাণ্ডার রয়েছে।

নথি ফাঁস হলো যেভাবে

সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ডিসকর্ডের প্রাইভেট অনলাইন গ্রুপ ‘থাগ শেকার সেন্ট্রাল’। ভিডিও গেম খেলোয়াড়দের কাছে জনপ্রিয় এই চ্যাটরুমটি ২০২০ সালে গড়ে তোলেন জ্যাক টেক্সেইরা। এই চ্যাটরুমেই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। টেক্সেইরা সামরিক যোগাযোগের একাধিক নেটওয়ার্কের কেবল ও তথ্যভাণ্ডার দেখাশোনা করতেন। এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার নিরাপত্তা প্রবেশাধিকার পেতেন। তার শেষ কর্মস্থল ছিল ম্যাসাচুসেটসের বাজার্ডস বের কেপ কোডের যৌথ ঘাঁটি অর্টিসে। কাজের সূত্রেই গোপন নথি দেখা ও ব্যবহারের সুযোগ পেতেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোপন নথি সরিয়ে ফেলতেন। পরে সেসব নথি চ্যাটগ্রুপে পোস্ট করতেন। আদালতের হলফনামা অনুসারে, টেক্সেইরা ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে পেন্টাগনের অতি গোপনীয় তথ্য ফাঁস করা শুরু করেন। এর মধ্যে কমপক্ষে একটি নথি তিনি বিমান বাহিনীর ন্যাশনাল গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় পোস্ট করেন।

গোয়েন্দা নথিগুলোর বেশ কিছু ছবি প্রথম পোস্ট করা হয় ডিসকর্ডে। কিন্তু চ্যাটগ্রুপটির ১৭ বছর বয়সী এক সদস্য ওই নথিগুলো একটি পাবলিক চ্যানেলে আবার পোস্ট করে। কিন্তু গোল বাধে তখন, যখন এপ্রিলের শুরুতে  মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে তা ছড়িয়ে পড়ে। গত ৭ এপ্রিল নথিগুলোতে থাকা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে, যার অধিকাংশই ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ বলে লিপিবদ্ধ ছিল। সেখান থেকে রাশিয়ার সমর্থকরা সেগুলোকে প্রকাশ করতে যেন যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়। পরে এসব নথি অনলাইন মেসেজিং বোর্ড চ্যান ও টুইটারেও প্রকাশিত হয়। আর এভাবেই ইউক্রেন যুদ্ধের কৌশলসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর মার্কিন গোপন নথি ফাঁস হয়ে যায়। টেক্সেইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকা বিরল এক সন্দেহভাজন হিসেবে মনে করা হচ্ছে। মাত্র ২১ বছরের এক তরুণ কী করে সদ্য হাইস্কুল স্নাতকদের সঙ্গে দেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, তা রীতিমতো বিস্মিত করেছে বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু সহকর্মী, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের কাছে শান্ত ও নির্বিবাদী হিসেবে পরিচিত তিনি। আশ্চর্যের হলেও, খ্রিস্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা টেক্সেইরা বন্দুকের ভীষণ অনুরাগী হলেও বরাবর যুদ্ধবিরোধী। 

ফাঁস করল কেন

নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন ইন্টেলিজেন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসকর্ডের ‘থাগ শেকার সেন্ট্রাল’ চ্যাটরুমের ক্যারিশমেটিক নেতা ছিলেন টেক্সেইরা। তিনিই সেটির নিয়ন্ত্রণ করতেন। এই চ্যাটগ্রুপে বিভিন্ন দেশের মোট সদস্য ২০ থেকে ৩০ জন, যাদের বেশির ভাগই বয়সে তরুণ। শুধু আমন্ত্রণ পাওয়ারাই এই গ্রুপে স্থান পেতেন, যারা বন্দুক, সামরিক সরঞ্জাম ও ঈশ্বরের প্রতি তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা থেকে একজোট হয়। দলের ব্যক্তিগত সদস্যরা টেক্সেইরা সম্পর্কে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, গোপন এই নথি ফাঁসকারীকে তাদের কেউ কেউ ‘ওজি’ হিসেবে জানতেন। কয়েক মাস ধরে সরকারি গোপনীয় নথির শত শত পোস্ট গ্রুপে শেয়ার করেছেন। প্রথমদিকে অতি গোপনীয় গোয়েন্দা নথির প্রিন্ট কপিগুলো তিনি পড়েছেন ও নিজে আবার টাইপ করেছেন এবং একপর্যায়ে মূল নথিগুলোর ছবিও তুলেছেন।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ডিসকর্ড দলের কিশোর সদস্যরা একসঙ্গে হন করোনা মহামারীর বিপর্যকর সময়। যখন বন্ধুবান্ধব হারিয়ে তারা ঘরে বন্দি হয়ে থাকতেন। তখন বন্ধুরা মিলে অনলাইনে গেম খেলতেন। তারা নিজেদের পছন্দের বিভিন্ন বিষয় যেমন বন্দুক, বর্ণবাদী নানা মেমে,  আপত্তিকর কৌতুক ও গালগল্প শেয়ার করতেন। অনেক সময় একসঙ্গে মিলে সিনেমা দেখতেন, হাসিঠাট্টা এবং প্রার্থনাও করতেন। কিন্তু ‘ওজি’ তখন তাদের বৈশি^ক নানা বিষয় ও সরকারের গোপন বিভিন্ন অপারেশন সম্পর্কে বক্তৃতা দিতেন। ডিসকর্ডের একজন সদস্য টাইম ম্যাগাজিনকে বলেছেন, ‘তিনি এমনটা ভাবতেন যে, তার ভেতরের এই জ্ঞান দিয়ে তার চারপাশে থাকা সবাইকে অস্থির বিশ^ থেকে সুরক্ষা দেবেন।’ এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, টেক্সেইরা সংবেদনশীল তথ্য লিখে ওই চ্যাটরুমে শেয়ার করতেন। অন্যরা তার চ্যাটে মনোযোগ না দিলে, হতাশ হয়ে ফাইলগুলোর ছবিও শেয়ার করতেন।

ধর্ম ছিল এই দল ও টেক্সেইরার আরেকটি আগ্রহের বিষয়। ওয়াশিংটন পোস্ট এই গ্রুপে পোস্ট করা একটি ভিডিও খুঁজে পেয়েছে, যেখানে ‘ওজি’কে বর্ণবাদী ও ইহুদিবিদ্বেষী গালি দিতে দেখা গেছে। তার সরকারের প্রতিও অন্ধ রাগ ছিল। ডিসকর্ডের তরুণ এক সদস্য এ সম্পর্কে বলেছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কথা বলতেন। বিশেষ করে দেশের আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তিনি একটি অশুভ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করতেন, যারা তাদের নাগরিকদের দমন ও অন্ধকারে রাখতে চায়। তিনি সরকারের ‘বাড়াবাড়ি’ সম্পর্কে ক্ষ্যাপা ছিলেন। ‘ওজি’ তার অনলাইন সঙ্গীদের বলেছিলেন যে,  সরকার জনগণের কাছ থেকে ভয়ংকর সত্য গোপন করেছে। 

গ্রেপ্তার হলেন যেভাবে

জ্যাক টেক্সেইরার গ্রামের বাড়ি নর্থ ডাইটন শহরে। এই বাড়িতে তার শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা। তখন এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা পেন্টাগনের নথি ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে টেক্সেইরাকে ম্যাসাচুসেটসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ব্রিস্টল কাউন্টির উইলিয়াম স্ট্রিটের এই বাড়িতে প্রথম শনাক্ত করে। তিনি তখন বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। এফবিআইয়ের সদস্যরা উইলিয়াম স্ট্রিটের রাস্তা অবরোধ করে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ফৌজদারি অভিযোগ অনুসারে, তার সরকারি কম্পিউটার ও প্রবেশাধিকারে ব্যবহার করা তথ্য কাজে লাগিয়ে তাকে শনাক্ত করেন গোয়েন্দারা। এদিকে আদালতের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ৬ এপ্রিল টেক্সেইরা সরকারের গোপনীয় ডাটাবেসে ঢুকে ‘ফাঁস’ শব্দটি অনুসন্ধান করেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারলান্ড। পরদিন শুক্রবার প্রাথমিকভাবে ম্যাসাচুসেটস জেলা আদালতে তোলা হয় টেক্সেইরাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের অতি গোপন গোয়েন্দা নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বস্টনের ওই আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ দুটি হলোÑ জাতীয় প্রতিরক্ষাবিষয়ক তথ্য অবৈধভাবে নিজের কাছে রাখা ও ছড়িয়ে দেওয়া এবং গোপন তথ্য ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক নথিপত্র অনুমোদন ছাড়া সরিয়ে নেওয়া। এ অভিযোগগুলো মূলত গুপ্তচরবৃত্তি আইনের অধীনে আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগটি প্রমাণিত হলে টেক্সেইরার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর দ্বিতীয় অভিযোগের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেতে পারেন তিনি। টেক্সেইরা জামিনের জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন করেননি। কারাগারের হেফাজতে থাকা এই সন্দেহভাজনের আজ আটকাদেশের শুনানি হওয়ার কথা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত