যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের ভাইটালিটি ব্লাস্ট। ৭৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দেশের টি-টোয়েন্টি লিগ দুটিতে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দল দুটি হলো এলএ নাইট রাইডার্স ও সারে। দুটি দলেরই খেলোয়াড় ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার সুনীল নারিন। সব ম্যাচেই খেলার কথা রয়েছে তার।
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলেছিলেন নারিন। সেটা শেষে গত ছয় সপ্তাহ ধরে তিনি রয়েছেন ইংল্যান্ডে। সেখানে ভাইটালিটি ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের দল সারের হয়ে খেলছেন তিনি। ১৫ টি ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ২০ উইকেট। ব্যাট হাতে ১৫৯.৮৪ স্ট্রাইক রেটে ও ২২.৫৫ গড়ে করেছেন ২০৩ রান। সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
তার এমন অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে সারেও উঠেছে সেমিফাইনালে। আগামী শনিবার ফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচটিতে তারা নামবে সমারসেটের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি। যদি সারে জিতে তাহলে ঐদিন রাতে পৌনে ১২টায় ফাইনাল খেলতে নামবেন নারিনরা।
কিন্তু তার আগেই শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় পর্দা উঠছে যুক্তরাষ্ট্রে মেজর লিগ ক্রিকেটের। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে টেক্সাস সুপার কিংসের মুখোমুখি হবে এলএ নাইট রাইডার্স। ছয় দলের টুর্নামেন্টে সোমবারই আবার দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে দলটি। আর এই নাইট রাইডার্সের হয়ে এই টুর্নামেন্টে খেলবেন নারিন। সারেও তাকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ধরে রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে নাইট রাইডার্সও তাকে পেতে চায়।
কিন্তু দুই দলের হয়ে সব ম্যাচ খেলা সম্ভব নয় তার পক্ষে। আর তাই এটাকে ভাবা হচ্ছে তার ‘মিশন ইম্পসিবল’। কারণ সব ম্যাচ খেলতে হলে শুক্রবারের আগেই তাকে যেতে হবে টেক্সাসে। সেখানে উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে আবার ফিরতে হবে বার্মিংহামে। তারপর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল শেষ করে আবার ফিরে যেতে হবে টেক্সাসে। তাতে ৭৫ ঘণ্টার ব্যবধানে চার ম্যাচ খেলা নারিনের ১৮ ঘণ্টাই তার কাটবে ফ্লাইটে।
সারের হয়ে সেমিফাইনাল খেলতে চাইলে মিস করতে হবে এমএলসির উদ্বোধনী ম্যাচ। পরে ফাইনালে উঠলে সেটা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দলটির দ্বিতীয় ম্যাচে অংশ নিতে পারেন। তবে দীর্ঘ ভ্রমণের পর ফের ম্যাচ খেলতে নামাটাও প্রায় অসম্ভব। তাই আগামী বুধবার সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের ম্যাচের আগে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেটার প্রমাণ মিলেছে সারের অধিনায়ক ক্রিস জর্ডানের কথায়। ক্রিকইনফোকে তিনি বলেছেন, ‘নারিনের সফরসূচীটি আঁটসাঁট। আপাতত পরিকল্পনা, সফরসূচী পরিবর্তন করা।’
যদিও এমন আঁটসাঁট সফর এবারই প্রথম নয়। নারিনের আগে ২০১৯ সালে অ্যালেক্স হেলস এবং হ্যারি গার্নিও এমনটি দেখিয়েছেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে নটিংহামশায়ারের হয়ে ব্লাস্টের ফাইনাল খেলতে ইংল্যান্ডে ফিরে যান। পরের দিন ফের বার্বাডোজে ফিরে আসেন।