বিশ্ব সদ্য রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম মে মাস অতিক্রম করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে স্থল ও সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস)।
বুধবার (১০ জুন) প্রকাশিত সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪০ সাল থেকে সংরক্ষিত রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ মে মাস ছিল ২০২৪ সালের মে। আর চলতি বছরের মে মাস সেই রেকর্ডের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা উনবিংশ শতাব্দীর শিল্প-পূর্ব সময়ের গড়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।
এ সময় পশ্চিম ইউরোপে বছরের এত শুরুর দিকে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহগুলোর একটি দেখা গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে যে ধরনের চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই প্রতিফলন।
অন্যদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এল নিনো পরিস্থিতি গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গত মে মাসে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতিও দেখা গেছে। চীন ও তুরস্কে প্রাণঘাতী বন্যার ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এল নিনো পুরোপুরি গড়ে উঠতে পারে, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
এল নিনো সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয়। এ সময় বাণিজ্যিক বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়লে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পানি স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হয়। এতে কোথাও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।