বুয়েনস আয়ার্স সম্মেলন

ঢাকায় জ্ঞান ও উদ্ভাবনী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৯, ০৩:৩৩ এএম

ঢাকায় জাতিসংঘের ‘সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন’ ফোরামের জ্ঞান ও উদ্ভাবনীকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ প্রস্তাব দেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের মে মাসে রাজধানী ঢাকায় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষিণের উন্নয়নে বিনিয়োগ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই বাংলাদেশ এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছিল।

দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাকে শক্তিশালী ও পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দ্বিতীয় উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলন আহ্বান করে। ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে অনুষ্ঠিত ‘বুয়েনস আয়ার্স প্ল্যান অব অ্যাকশন (বাপা)’ গৃহীত হওয়ার ৪০ বছরপূর্তি উপলক্ষে এ সম্মেলন হচ্ছে। বাপা+৪০-এর লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কারিগরি সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া। ২০ মার্চ শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হবে আজ। বাংলাদেশ এ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সম্মেলনটির উচ্চপর্যায়ের প্ল্যানারিতে কিছু সময়ের জন্য সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছেÑ দক্ষিণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও এর সম্ভাবনা উন্মোচনের পাশপাশি দক্ষিণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে সফলতা অর্জনের লক্ষ্যে উন্নয়ন, অর্থ, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি ফোরাম গঠন করা। এছাড়া তিনি রাজধানী ঢাকায় ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ জ্ঞান ও উদ্ভাবনীকেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।

আব্দুল মোমেন বলেন, এই কেন্দ্র সর্বশেষ প্রযুক্তি হস্তান্তর বিশেষ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণের দেশগুলোর বিপুলসংখ্যক নাগরিক প্রবাসে বসবাস করছেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবাসী এই নাগরিকরা যাতে তাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্পদ ব্যবহার করে নিজ নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে সে লক্ষ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার আওতায় একটি প্ল্যাটফর্ম গঠন করা যেতে পারে।

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফার্নান্দে এসপেনোসা গার্সেজ, জর্জিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড জালকালিয়ানি এবং গুয়েতেমালার পররাষ্ট্রবিষয়ক ভাইস মিনিস্টার জাইরো ডি. এসট্রাডা বির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে নিজ নিজ দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও উন্নয়ন প্রচেষ্টাসমূহের নানা দিক তুলে ধরা হয়। সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশ অদম্য অগ্রযাত্রা এবং মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত