তামাকপণ্যে যুগোপযোগী ও কার্যকর করারোপের মাধ্যমে মূল্য বাড়ানোর জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের বিদ্যমান মূল্যস্তর (স্ল্যাব) চারটি থেকে কমিয়ে দুই স্তরে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘কেমন তামাক কর চাই’ বিষয়ক প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে তারা এই সুপারিশ তুলে ধরেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি ও স্ল্যাব কমানোর প্রস্তাব
ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এতে অন্যদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ, আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিয়া কিরণ এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।
সংবাদ সম্মেলনে ৩৫ এবং ৪৮ টাকার দুটি মূল্যস্তর একত্রিত করে একটি (নিম্নস্তর) এবং ৭৫ ও ১০৫ টাকা মূল্যস্তর একত্রিত করে আরেকটি মূল্যস্তরে (উচ্চস্তর) আনার সুপারিশ করা হয়। একইসঙ্গে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং উচ্চস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া সব ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের ৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেন।
অনুষ্ঠানে খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আনুপাতিকহারে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমলেও সংখ্যায় কমছে না। আমাদের এখন তামাকের বিরুদ্ধে জোর প্রচার কাজের পাশাপাশি দরকার তামাকের বিকল্প চাষ। যার মাধ্যমে কৃষক আরও লাভবান হতে পারে।
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, তামাকের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া ব্যবহার কমানো সম্ভব নয়। এজন্য পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে শিশুরা ছোট থেকেই যেন তামাকের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ সব তামাক পণ্যের খুচরা মূল্যে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেন।
ড. মাহফুজ কবীর তার প্রস্তাবনায় আগামী বাজেটে বিড়ির মূল্য বিভাজন তুলে দিয়ে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৬ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৮ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৪ দশমিক ৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপের পরামর্শ দেন।
