ওয়াসার অনিরাপদ পানি

প্রতিবেদন না পাওয়ায় অসন্তোষ হাইকোর্টেরv

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ০১:৩৪ এএম

রাজধানীর কোন কোন এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি অনিরাপদ আদালতের নির্দেশের পরও এ বিষয়ে প্রতিবেদন না দেওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার পানি পরীক্ষায় কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন ও অর্থায়ন কে করবে তা নির্ধারণ করে দুদিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ পরবর্তী আদেশের জন্য আগামীকাল বুধবার দিন রেখেছে।

এদিকে রাজধানীর ১৬টি এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি অনিরাপদ উল্লেখ করে হাইকোর্টে নিজ উদ্যোগে প্রতিবেদন দিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, অনিরাপদ পানি পরীক্ষায় অর্থায়ন কারা করবে? আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

গত ৮ মে শুনানিকালে পানি পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিলের পরিবর্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পানি পরীক্ষায় কমিটি গঠন এবং কমিটির কার্যপরিধি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রতিবেদনে ওয়াসাকে ১১টি জোনে ভাগ করে পরীক্ষার কথা বলা হয়। হাইকোর্ট ওইদিনও উষ্মা প্রকাশ করে আদেশে ঢাকার কোন কোন এলাকায় ওয়াসার পানি সবচেয়ে বেশি দূষিত বা অনিরাপদ তা জানতে চেয়ে ১৩ মে শুনানির দিন ঠিক করেছিল।

রিটকারী তানভীর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর কোন কোন এলাকায় ওয়াসার পানি বেশি দূষিতÑ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জুরাইন, দনিয়া, শ্যামপুর, উত্তরার ৪ ও ৫ নম্বর সেক্টর, ঝিগাতলা বিজিবির ৫ নম্বর গেট এলাকা, লালবাগ, রাজার দেউরি, মালিবাগ, মাদারটেক, বনশ্রী, গোড়ান, রায়সাহেব বাজার, মোহাম্মদপুরের বসিলা, মিরপুরের পল্লবী, কাজীপাড়া ও সদরঘাট এলাকার পানি বেশি দূষিত।

তিনি বলেন, গত বছর ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ অপরিচ্ছন্ন ও অনিরাপদ উৎসের পানি পান করছে এবং পানির নিরাপদ বিবেচিত উৎসগুলোর ৪১ শতাংশই ক্ষতিকারক ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়াযুক্ত। আর ১৩ শতাংশে রয়েছে আর্সেনিক। এরপর নিরাপদ পানির বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়। এরপর গত ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে ওয়াসার পানির মান পরীক্ষায় পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেয়। কমিটিকে আদেশের দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার পানির মান পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু ওয়াসা উদাসীনতা ও অবেহলার দরুন এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন দেয়নি বলে অভিযোগ করেন এই আইনজীবী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত