‘অর্থই সব অনর্থের মূল’Ñ মাস শেষে এই প্রবাদটি বেশ ক্লিশে মনে হয় চাকরিজীবীদের। হাত খালি, সংসারের ঘানি টানতে জোড়াতালিই ভরসা। সৃষ্টি হয় স্ট্রেসের। আধুনিক দিনযাপনে স্ট্রেসের কারণে তালিকাটা লম্বা। স্ট্রেস সবার জন্যই বেশ ক্ষতিকর। সময়ের চেয়ে বয়স একধাপ বাড়িয়ে দেয়। প্রভাব পড়ে শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যে। বিষণœতা, মাথাব্যথা, ইনসমনিয়ার কারণও স্ট্রেস। আর নারীদের ওপরই এর প্রভাব পড়ে বেশি। কারণ অফিস, বাড়ি সব সামলাতে হয় দুই হাতে। কিন্তু মাসের শুরু থেকে একটু বুঝেশুনে খরচ করলে অর্থ-সংক্রান্ত স্ট্রেস কমে যেতে পারে অনেকটাই। জেনে নিন কী করে মানি ম্যানেজমেন্ট করবেন।
বিপদ জানান দিয়ে আসে না। এই খারাপ সময়ের জন্য ইমার্জেন্সি সেভিংসে গুরুত্ব দিতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। তিন থেকে ছয় মাসের জীবনযাপনের ব্যয় সঞ্চয়ের পরামর্শ দেন তারা। এতে টাকাপয়সা নিয়ে কিছুটা স্বস্তি মেলে। মনোযোগী হওয়া যায় অন্যদিকে। আয় অনুযায়ী প্রতি মাসেই কিছু অর্থ সঞ্চয় করুন বিপদের বন্ধু ভেবে।
অনেকেই সঞ্চয়ে মনোযোগী হওয়ার কথা ভাবেন। কিন্তু এটা বলা যতটা সহজ, করা ততটাই কঠিন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে অর্থসঞ্চয়ে বেছে নিতে পারেন ব্যাংক, পোস্ট অফিসে থাকা বিভিন্ন ধরনের ডিপোজিট স্কিম। অর্থসঞ্চয়ের সহজ পন্থা বলা যেতে পারে এগুলোকে। বেতন হলে এ ধরনের কোনো স্কিমে টাকা রাখুন সাধ্যমতো। দেখবেন কিছুটা হলেও টাকা আছে আপনার হাতে। টাকা জমা দিতে লাইনে দাঁড়ানোর কথা ভেবে ডিপোজিট স্কিমের চিন্তা বাদ দেন। কিন্তু এখন অনেক ব্যাংকেই সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই ডিপোজিট স্কিম নিয়ে থাকা যায় নিশ্চিন্তে।
অনেক সময় কোনো ড্রেস বা অ্যাকসেসরিজ দেখে কোনো চিন্তাভাবনা না করেই কিনে ফেলি আমরা। কিন্তু কোনো কিছু কেনার আগে দুবার ভাবা উচিত। ভেবে দেখুন জিনিসটা কেনা জরুরি কিনা। খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু না হলে কেনাকাটায় রাশ টেনে ধরুন।
হঠাৎ রিটেইলারদের ইমেইল একটি সুন্দর জুতো দেখলেন। এই জুতোজোড়া না হলে আপনার চলবে না। সাতপাঁচ না ভেবে অর্ডার দিয়ে দিলেন। অর্ডার অনুযায়ী জুতোজোড়া হাতে এলে তখন আর ভালো লাগল না। পুরো টাকাটাই জলে! তাই রিটেইলারদের ইমেইল আন-সাবস্ক্রাইব করে দিন। যখন যা প্রয়োজন হবে, তখন রিটেইলারদের অনলাইনে ঢুঁ দিলেই হবে। পেয়ে যাবেন পছন্দের জিনিসটি।
ক্রেডিট কার্ড নয়, কেনাকাটা করুন নগদ অর্থে। প্লাস্টিক কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টে সাধারণত খরচ বেশি হয়ে থাকে। তাই নগদ কেনাকাটার পক্ষে বিশেষজ্ঞরা। তবে নগদ অর্থ ব্যবহারে বেশ কিছু বাধা-প্রতিবন্ধকতা আছে। যেমন বাস বা এয়ারলাইন্স টিকিট কেনার ক্ষেত্রে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহারই শ্রেয়।
ব্যয় করুন নিজের সাধ্য অনুযায়ী। এ ক্ষেত্রে নিজের সীমা অতিক্রম করবেন না। সবচেয়ে ভালো হয় মাসের শুরুতেই একটা বাজেট করে নিলে। বাজেট অনুযায়ী চলার চেষ্টা করুন। এতে অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সহজ হবে।
সঞ্চয় করা খুব কঠিন অনেকের জন্য। এর ইচ্ছা থাকতে হবে। নিজেকে সঞ্চয়ী করে তুলতে প্রথমেই পরিকল্পনা করে নিন। প্রথমত, নিজের খরচ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। খাতায় লিপিবদ্ধ করুন এক মাসে প্রতিদিনের ব্যয়ের হিসাব। এ তালিকা থেকে চা-কফি, যাতায়াত ভাড়ার মতো ছোটখাটো বিষয়গুলো বাদ দিলে চলবে না। এভাবে মাসের খরচ সম্পর্কে জানলে কতটা সঞ্চয় করবেন তা নিজেই বুঝতে পারবেন।
