এবার প্রকাশ্য দিবালোকে জেলার সদর উপজেলায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র লিসান ফকির (১৮) খুন হয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুরে উপজেলার শিবরামপুর মডার্ন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জেলায় তিনজন খুন হলেন। এদিকে সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী লিসানের খুনের সঙ্গে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করার যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় তার সহপাঠী রবিনকে (১৮) আটক করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জুন বরগুনায় দিনদুপুরে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে (২৩) হত্যা করা হয়। এ ঘটনার স্থিরচিত্র ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ছুরিকাঘাতে আহত লিসানের বন্ধু দিপুকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জানান, গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে লিসান ও তার বন্ধুরা মোটরসাইকেলে শিবরামপুর মডার্ন মোড়ে ঘুরতে যায়। সেখানে স্থানীয় সোহেল মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে লিসানের পেটে ছুরিকাঘাত করে সোহেল। লিসানকে বাঁচাতে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে ওই যুবক। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিসানকে মৃত ঘোষণা করেন।
সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, শিবরামপুর কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করত লিসানের সহপাঠী নিজনান্দুয়ালী এলাকার রবিন ও শামীম। এর প্রতিবাদ করায় লিসানকে খুন করার জন্য সোহেলকে ভাড়া করে তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে শিবরামপুর মডার্ন মোড়ে নিয়ে আসে শামীম ও রবিন। লিসান মোটরসাইকেলে সেখানে আসামাত্রই ওঁৎ পেতে থাকা সোহেল ছুরিকাঘাত করে। কিছুক্ষণ পর মাগুরা সদর হাসপাতালে মারা যায় সদরের আঠারোখাদা মঠবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলাম ফকিরের ছেলে লিসান।
তিনি আরও জানান, উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রীটির বাবা একজন সংবাদপত্র বিক্রেতা। এ ঘটনায় লিসানের সহপাঠী রবিনকে আটক করা হয়েছে। সে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকার রেজাউল শেখের ছেলে। রবিন জিজ্ঞাসাবাদে এ খুনের ব্যাপারে তথ্য দিয়েছে এবং স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের বিষয়টি স্বীকার করেছে।
