কয়েক বছর ধরেই ঢাকার চলচ্চিত্র মন্দা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছরেই সিনেমা মুক্তির সংখ্যা কমে আসছে। নতুন চলচ্চিত্রও নির্মিত হচ্ছে না সেভাবে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব পড়েছে ঢালিউডের শীর্ষস্থানীয় তারকাদের ওপর। চলচ্চিত্রে তাদের কাজ কমেছে। এই তালিকায় আছেন পূর্ণিমা, অপু বিশ্বাস, পপি, ফেরদৌস, বিদ্যা সিনহা মিম, ইমন, নীরব, নুসরাত ফারিয়া, পরীমনিসহ বেশ কয়েকজন তারকা। বর্তমানে এসব তারকার মধ্যে কারও হাতে কোনো সিনেমা নেই, কারও হাতে আছে এক-দেড় বছর আগের পুরনো সিনেমা। নতুন সিনেমা নেই বললেই চলে। তবে দেশ ও দেশের বাইরে স্টেজ শো, শো-রুম উদ্বোধন কিংবা বিজ্ঞাপনে ব্যস্ত আছেন তারা।
ফারিয়া বলেন, ‘ভালো কাজের অপেক্ষায় ছিলাম। ইচ্ছা করলে মাঝের সময়টাতে কয়েকটি সিনেমাতেই চুক্তিবদ্ধ হতে পারতাম। বুঝেশুনে কাজ করতে চাই। তাই সিনেমার সংখ্যা না বাড়িয়ে অন্যকাজে ব্যস্ত ছিলাম। এরই মধ্যে আমি দেশ-বিদেশের সাতটি জনপ্রিয় পণ্যের ব্র্যা- অ্যাম্বাসেডর হয়েছি। সেসব পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারে সময় দিয়েছি। পড়াশোনা তো আছেই। এখন সিনেমার কাজ করছি। ভালো সিনেমা না পেলে ঘরে বসে থাকব, কিন্তু মানহীন কাজ করতে চাই না।’
ফারিয়ার কথার সঙ্গে একমত পূর্ণিমা, পপি, মিমসহ অনেক তারকাই। তাদের ভাষ্য, ‘প্রায়ই সিনেমার প্রস্তাব পাই। কিন্তু এতদিন কাজ করে যে সুনাম কুড়িয়েছি তা যেনতেন কাজ করে নষ্ট করতে চাই না। এখন আমাদের এখানে সিনেমাই কম হচ্ছে। আর ভালো সিনেমার সংখ্যা তো আরও কম। তাই নিয়মিত সিনেমায় ব্যস্ত থাকা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু দর্শক আমাদের নিয়মিত দেখতে যাচ্ছেন বিভিন্ন মাধ্যমে।’
মিম সিনেমার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন ব্রা-ের বিজ্ঞাপনচিত্র, প্রমোশনে অংশ নিচ্ছেন। ভালো গল্পের বিশেষ নাটক ও টেলিছবিতেও তাকে দেখা যায়। এর মধ্যে ‘নীল দরজা’ নামের ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দর্শককে ভালো কাজ উপহার দেওয়াই লক্ষ্য। মাধ্যম বড় কথা নয়, যেখানে ভালো কাজের সুযোগ পাই সেটাই করি। আমার কাজগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখবেন মানহীন কাজ করিনি কখনো।’
এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সিয়ামের চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ততা ভালোই। তারপরও তিনি ওয়েব ফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র ও স্টেজ শো করে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটি সিনেমা করার পর অন্যটি শুরু করতে একটু সময় নিই। এ সময়ে নিজেকে নতুন সিনেমার জন্য প্রস্তুত করি। এর ফাঁকে ভালো গল্পের শর্টফিল্ম, ওয়েব ফিল্ম বা বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রস্তাব এলে না করি না। কারণ এসব মাধ্যমেও আমার দর্শক রয়েছে। সবাই তো আর সিনেমা হলে যায় না। আর স্টেজ শো করতে আমার বেশ ভালো লাগে। দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়। এতে পারিশ্রমিকও ভালো।’
মাসছয়েক আগে একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফিরে এসেছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়িকা অপু বিশ্বাস। এরপর ওপারে চন্দ্রাবতী ও জানবাজ নামে দুটি সিনেমাতে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। সিনেমার শ্যুটিং এখনো শুরু হয়নি। সিনেমার শ্যুটিং না করলেও দেশ ও দেশের বাইরে স্টেজ শো, শো-রুম উদ্বোধনের কাজ নিয়ে ব্যস্তই আছেন এই ঢালিউড কন্যা।
একই অবস্থা পরীমনির। এক-দেড় বছর পর বিশ^সুন্দরী নামের একটি সিনেমা হাতে পেয়েছেন। অবসরের পুরো সময়টা একাধিক জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি।
স্টেজ শো আর শো-রুম উদ্বোধনের রাজা-রানী বলা হয় জনপ্রিয় চিত্রতারকা জুটি ফেরদৌস ও পূর্ণিমাকে। তাদের হাতে আছে ‘জ্যাম’ নামের মাত্র একটি সিনেমা। তবে তারা মাসের বেশিরভাগ দিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেজ শো ও শো-রুম উদ্বোধন করে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পান। এই তালিকায় প্রথম সারিতে আরও আছেন চিত্রনায়ক ইমন, নীরব, চিত্রনায়িকা তানহা তাসনিয়া প্রমুখ।
তিনবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী পপি এতদিন স্টেজ শো আর শো-রুম উদ্বোধনীতে তেমন আগ্রহ না দেখালেও সম্প্রতি তাকেও এসব কাজে বেশ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিপুল দর্শকপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনিও বেশ সচ্ছল জীবনযাপন করছেন।
