প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে ঘোষিত ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা সার্কুলার বা নীতিমালা জারি করতে আরও দুই-তিন মাস সময় লাগবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, যখনই তা জারি করা হোক না কেন, গত ১ জুলাই থেকেই তা কার্যকর হবে। অর্থাৎ, গত ১ জুলাই থেকে যারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তারা সবাই প্রণোদনা পাবেন।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘গত ৩০ জুন সংসদে বাজেট পাস হয়েছে। ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। তবে এগুলোকে ফাংশনাল বা কার্যকর করার জন্য কিছু সময় লাগে। বৈধভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য এ অর্থবছর থেকেই ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেব। এটা আমরা বাজেটে পাস করেছি। কিন্তু সিস্টেম এখনো ডেভেলপ করতে পারিনি। প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সিস্টেম আপডেট করতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।
তিনি বলেন, সামনে ঈদ। অনেকেই ধারণা করছেন যে এখন দেশে কেউ রেমিট্যান্স পাঠালে তারা প্রণোদনা পাবেন না। এটা ঠিক নয়। এটা যেহেতু বাজেটে পাস হয়েছে সেহেতু এখন রেমিট্যান্স পাঠালেও ২ শতাংশ প্রণোদনা পাবেন। ছয় মাস পর হলেও পাবেন। এখন পাঠালেও পাবেন, পরে পাঠালেও পাবেন। অর্থাৎ জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই যারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন তারাই ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবেন। এক্ষেত্রে সিস্টেমটা ডেভেলপমেন্ট করতে আমরা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছি।’
কবে নাগাদ সার্কুলার জারি হতে পারেÑ এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। কেউ ১০০ টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে ১০২ টাকা পাবেন। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্যাক্স বা সার্ভিস চার্জ কাটা হবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয় মনে করে, রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হলে হুন্ডি ব্যবসা নিরুৎসাহিত হবে। ফলে চলতি হিসাব তথা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে। প্রণোদনা দেওয়ার ফলে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসবে। এ ক্ষেত্রে প্রণোদনা বাবদ সরকারের ব্যয় হবে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা। তবে নগদ প্রণোদনা পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে তা রেমিট্যান্স আকারে দেশে আসার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা তৈরি করে দিলে তারা সার্কুলার আকারে জারি করবেন। তারা কোনো নীতিমালা তৈরি করছেন না।
