তৃণমূল পর্যন্ত স্বাস্থ্য শিক্ষা পৌঁছে দিতে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা সেল স্থাপন করতে অনুরোধ জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে পাঠানো চিঠিতে কমিশন
চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ অনুরোধ করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক চেয়ারম্যানের চিঠিতে বলা হয়, “বর্তমানে স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা হলেও ম্রিয়মাণ। আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি হচ্ছে ‘প্রতিরোধ প্রতিষেধকের চেয়ে উত্তম’। এ কথাও সত্য যে, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমে কিছু তথ্য প্রচার করে থাকে। এ কারণে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ইস্যুতে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বিষয়। এ কথা অনস্বীকার্য যে, আমাদের দেশের মানুষদের পরিবেশগত কারণেও সংক্রামক রোগের প্রকোপসহ বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনাচারে সর্বস্তরে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের নিবিড় বা বহুল প্রচার ও প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।”
চিঠিতে চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেছেন, ‘কমিশন মনে করে এই বিশাল জনসংখ্যার দেশে তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম প্রসারের জন্য অন্তত উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা সেল স্থাপন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। শুধু সেল স্থাপন নয়, তাদের চার্টার অব ডিউটিজে সুনির্দিষ্ট কর্মবণ্টন করা সমীচীন। এই কর্মবণ্টন অনুসরণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের কোমল হৃদয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুশীলন করার লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত এসব স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করবেন। তাদের কোমল হৃদয়ে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের বীজ বপন করবেন। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া থেকে শুরু করে সকল প্রকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মশা-মাছিসহ কীট-পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধ, আর্সেনিকসহ সকল প্রকার পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ, পরিবেশ দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষার উপায়, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভাস, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিবর্তিত পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে পারেন। এছাড়া স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তৃণমূল পর্যায়ের যেখানে জনসমাগম ঘটে এমন স্থান যেমন-গ্রোথ সেন্টার, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থানে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নসহ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক বিষয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, নাটক, গানসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।’
