চীনের কৌশলগত জয়

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪৯ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে জাপানের সম্পর্কের ফাটল বাড়ছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়া ঘোষণা দেয়, তারা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি থেকে সরে আসবে। বাণিজ্যযুদ্ধ বাজে রূপ নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এমন বাস্তবতায় দৃশ্যত জয়ী হয়েছে চীন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই চুক্তি থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের জন্য বড় ধাক্কা। এ জোট কয়েক দশক ধরে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া-জাপানের দ্বান্দ্বিক অবস্থা দীর্ঘ পরীক্ষিত মিত্রদের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনীহার আরেকটি উদাহরণ। এ অনীহা ওয়াশিংটনের মিত্রদের সম্পর্কে আরও ভাটা আনতে বিরোধীদের সহায়তা করবে। এ বছরের শুরুতে সিউল ও টোকিও সামরিক বেশ কিছু বিষয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হওয়ার সময়ও একই ধরনের সমালোচনা হয়েছিল।

চীন ও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই চাইছে ওয়াশিংটন, সিউল ও টোকিওর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সম্পর্কে ফাটল ধরার মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমুক। ত্রিভুজের মধ্যে সিউল ও টোকিওর সম্পর্ক দুর্বলতম। কোরিয়ায় জাপানের উপনিবেশবাদের কারণে দুটি পক্ষের মধ্যে এ অবিশ্বাস রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের উত্তর-পূর্ব এশিয়া নীতির সমালোচকদের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিরোধ নিরসনে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ভূমিকা উপেক্ষা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত বাহিনীর সাবেক কমান্ডার ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ভিনসেন্ট ব্রুকস বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় দুটি জোটের সাধারণ বিন্দু যুক্তরাষ্ট্র এবং এটি (যুক্তরাষ্ট্র) দুই দিকে তথ্য আদান-প্রদানে অনেক কম দক্ষ।’

বাস্তবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি অনেক প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উত্তর কোরিয়ার সম্প্রতি আরেকটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা এ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও উচ্চতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন, যা টোকিও, সিউল ও ওয়াশিংটনকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণে সহায়তা করবে। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি বাতিল সে প্রক্রিয়াকে জটিল করবে।

চুক্তি বাতিলে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে চীনের। উদীয়মান আঞ্চলিক এ শক্তিটি জাপান নিয়ন্ত্রিত কিছু দ্বীপের মালিকানা দাবি করে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থাড মোতায়েন করায় দক্ষিণ কোরিয়াকে একহাত নিয়েছে তারা।

চীনের সাম্প্রতিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রধানদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, পেইচিং ‘ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শ্রেষ্ঠ শক্তি’ হতে চায়।

২০১৪ সাল থেকে চীন অনেক সাবমেরিন, রণতরী চালু করেছে। চীনের বিমানবাহিনী নিয়মিতই নতুন ও উন্নত বিমান এবং অস্ত্র উদ্বোধন করছে। এর মধ্যে দুই ইঞ্জিনের জে-২০ নিঃশব্দ জঙ্গিবিমানও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মতে, পেইচিংয়ের বিমানবাহিনী এখন এশিয়ার মধ্যে বৃহত্তম ও বিশ্বে তৃতীয়। চীনের এসব সামরিক অভিলাষের সঙ্গে টেক্কা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের দরকার এশিয়ার প্রতিরক্ষা মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত