এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করবে রায়ে অসন্তুষ্ট আসামিপক্ষ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৪৮ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ও স্বজনরা। দেশব্যাপী আলোচিত এই হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায়ে মূল হোতা সিরাজ-উদ-দৌলাসহ ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা

 করেন। রায়ে আপিলের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে আদালত।
রায় ঘোষণার পর নুসরাত হত্যা মামলার আসামি মো. শামীমের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১২ আসামি জবানবন্দি দিলেও আদালত ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তা ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ আসামিরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমার মক্কেল মো. শামীমের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে আসামির স্বজনরা আহাজারি করেন। সেখানে দণ্ডপ্রাপ্ত হাফেজ আবদুল কাদেরের বাবা আবুল কাশেম খান, জাবেদ হোসেনের ভাই জাহেদ হোসেন, নুর উদ্দিনের মা রাহেলা বেগম, আবদুর রহিম শরীফের মা  নুরনাহার ও  ইফতেখার উদ্দিন রানার বাবা জামাল উদ্দিন এ রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা নুসরাত হত্যা মামলাটি সাজানো এবং তাদের স্বজন ও সন্তানদের বিনা দোষে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান।
নুর উদ্দিনের মা রাহেলা বেগম বলেন, ‘অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আমার ছেলেকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়। মামলায় ৮৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের মধ্যে কোনো  সাক্ষী আমার ছেলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়নি। পিবিআই তিন ঘণ্টা ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আদালতে তার স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। আমার ছেলে কোনোভাবেই জড়িত নয়। আমরা অভাবী মানুষ। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আমার ছেলেকে আমার কোলে ফিরে ফেতে চাই।’
আরেক দণ্ডপ্রাপ্ত মো. শামীমের মা হোসনে আরা বেগম তার ছেলে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘তাকে ঘর থেকে ধরে এনে ফাঁসানো হয়েছে। নুসরাতের ঘটনার দিন আমার ছেলে আলিমের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৫ পায়। এরপরও সে পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমার ছেলে নিষ্পাপ।’
আবদুর রহিম শরীফের মা নুরনাহার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনোভাবেই নুসরাত হত্যার সাথে জড়িত নয়। অধ্যক্ষের সাথে সুসম্পর্কের কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এ রায় মানি না। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে আমার ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করে ছাড়িয়ে আনব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত