এমপিওভুক্তদের তথ্য যাচাই করে দেখবে মন্ত্রণালয়

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০০ এএম

এমপিওভুক্ত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর তালিকায় স্থান পাওয়া সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য সরাসরি যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারের বেঁধে দেওয়া পাঁচটি শর্ত পূরণ না করতে পারলে এমপিও বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। গতকাল শনিবার অতিরিক্ত সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ফিজিক্যালি কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করতে পারিনি। অনলাইন আবেদনে গ্রেডিং পদ্ধতিতে যারা বেশি নম্বর পেয়েছিল তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের যে পাঁচটি শর্ত ছিল এখন আমরা সেগুলো ফিজিক্যালি পরিদর্শন করব। কেউ গরমিল তথ্য দিলে তার এমপিওভুক্তি কার্যকর হবে না। সেফ গার্ড আমরা রেখে দিয়েছি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের নীতিমালা অনুযায়ী সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে যাচাই-বাছাই করে যেসব প্রতিষ্ঠান এমপিওর যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে তাদের তালিকা তৈরি করা হয়। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তালিকায় স্থান পাওয়া ২ হাজার ৭৩০টি প্রতিষ্ঠানের এমপিও দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর বিকেলে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হয়।

এই তালিকা প্রকাশের পর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্তিত্বহীন, সরকারি এবং এমপিও পাওয়া প্রতিষ্ঠানও এই তালিকায় রয়েছে। জানা গেছে, ২০০৪ সালে যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজ টেক্সটাইল নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্তির আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া খাতুন বলেন, এটিকে মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হলেও হয়তো ভুলবশত আবারও নিম্নমাধ্যমিক স্তরের এমপিওভুক্তিতে স্থান পেয়েছে। এটা সংশোধনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশাল শির ইউনিয়নের নতুনহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ এবারের এমপিওভুক্তির তালিকায় রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজালাল সরকারি কলেজ ডিগ্রি স্তরের এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকার ৫১ নম্বরে (ইআইএন ১২৯৪৯২) স্থান পেয়েছে। গত বছরের ১২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানটির সরকারি করার আদেশ জারি করে।

জাবেদ আহমেদ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তির কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে নিয়ে যেতে হবে। যদি দেখা যায়, ছাত্রছাত্রী নেই, ভবন নেই তাহলে এর রিপোর্ট তারা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এটা অটোমেটিক বাতিল হয়ে যাবে। এটা আমরা সবার ক্ষেত্রেই করব।’

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন এমপিওভুক্তির তালিকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর এমপিও কোড দেওয়া হবে। স্কুল ও কলেজের এমপিও কোড দেবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসার এমপিও কোড দেবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও কোড পাওয়ার পর আবেদনের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষককে এমপিও কোড দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানের এমপিও কোড দেওয়ার সময়ও প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ করেছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘সফটওয়্যারের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী তালিকা তৈরি করা হয়। এমপিও কোড দেওয়ার আগেই যাচাই-বাছাই করা হবে।’ এমপিওভুক্তির তালিকা নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘তালিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারপরও শিক্ষকদের দিকে তাকিয়ে এমপিও দেওয়া উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত