ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দেওয়া প্রস্তাবের সমালোচনা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ওই সমালোচনার এক দিনের মাথায় কড়া জবাব দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘ব্রেক্সিট চুক্তির কারণে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এর জবাবে যুক্তরাজ্য সরকারের গৃহায়নমন্ত্রী রবার্ট জেনরিক বলেন, বিশ্বজুড়ে আমরা আমাদের মুক্তবাণিজ্য অব্যাহত রাখতে পারব। আর এতে যুক্তরাজ্যের লাভ হবে।’
ব্রিটিশ সরকারের মুখপাত্র জানান, জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তির মাধ্যমে আমাদের আইন, বাণিজ্য, সীমান্ত ও অর্থের ওপর পুনঃনিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়। ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের আগাম নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চাইছেন। লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিনকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে করবিন হবে ‘খুবই খারাপ’ এবং জনসন তার সময়ের জন্য সঠিক ছিলেন।
আগামী ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জনসন এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার আশা করছেন যাতে তিনি পার্লামেন্টে তার প্রস্তাব পাস করাতে পারেন। অন্যদিকে জেরেমি করবিন জিততে চাইছেন দ্বিতীয় গণভোটের দাবিকে এগিয়ে রাখতে। ট্রাম্প মনে করেন, তার দীর্ঘদিনের মিত্র ব্রেক্সিট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল ফারাজের সঙ্গে জনসনের জোট বাঁধা উচিত কৌশলগত কারণে। এ জোট হলে কেউ জনসনকে আটকাতে পারবে না বলেও জানান ট্রাম্প।
দীর্ঘ টানাপড়েন আর অনিশ্চয়তার পর সম্প্রতি ব্রেক্সিট চুক্তির বিষয়ে ইইউ-জনসন সমঝোতা হলেও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তা অনুমোদন পায়নি। পার্লামেন্ট প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিলেও জনসনের পক্ষ থেকে আলোচনা তিন দিনের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার যে প্রস্তাব তোলা হয়, তা ৩২২-২০৮ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।
