শুল্ক কমাতে সম্মত চীন-যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৩ এএম

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় বসার পর থেকেই চীনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ ঘোষণা করে বসেন ট্রাম্প। যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় চীনের আমদানি পণ্যের ওপর একের পর এক শুল্কারোপ করতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করতে শুরু করে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

সম্প্রতি চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে আলোচনার জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টিতে আরোপিত শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। তবে এই শুল্ক তখনই কমবে যখন দুপক্ষের মধ্যে আলোচনার ‘প্রথম ধাপ’ সফল হবে। গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, উভয় দেশ ধাপে ধাপে শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। নাম প্রকাশ না করে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এমন সংবাদের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপের চুক্তির বিষয়টি এখনো কাগজে-কলমে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট চিন পিং স্বাক্ষর করলেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

হোয়াইট হাউজ মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিসাম ফক্স নিউজকে জানান, চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুবই আশাবাদী’। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার ১৬ মাস ধরে চলা অস্থিরতার অবসান হবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘চীনা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়নি। কিন্তু আমরা খুবই আশাবাদী যে, আমরা খুব জলদিই চুক্তিবদ্ধ হতে পারব।’

হোয়াইট হাউজের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভার্রো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রথম ধাপের চুক্তিপত্র অনুসারে এখনই বিবদমান কোনো শুল্ক কমানোর সম্ভাবনা নেই। উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টিকে একটি নির্দিষ্ট পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’ শুল্ক কমানোর বিষয়টিকে পিটার চীনের প্রোপাগান্ডা হিসেবে অভিহিত করেন।

তবে অর্থনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে এ অবস্থায়ও উভয় দেশের মধ্যে হতে যাওয়া চুক্তি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। গত মাসে ট্রাম্প যখন এই চুক্তির একটি খসড়া রূপরেখা ঘোষণা দিয়েছিলেন, এরপর থেকে এখনো চুক্তির প্রশ্নে অনেক কাজ বাকি ট্রাম্প প্রশাসনের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত