করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও প্রতিকার নিয়ে অনলাইনে ব্যাপকহারে গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে সমাজে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়ছে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরপরই ফেইসবুকসহ অনলাইনের অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াতে শুরু করে। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হলেও অধিকাংশই এর বাইরে রয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, গুজব তৈরির অভিযোগে চট্টগ্রামের একজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে অবস্থানের দাবি করে এক
নারী ফেইসবুক লাইভে নিজেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দাবি করে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়ান। ওই নারীর অবস্থান খুঁজেও তাকে শনাক্ত করা যায়নি। বাধ্য হয়ে তার আইডি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরে এক নবজাতকের করোনাভাইরাসের প্রতিকার সংবলিত নির্দেশনা নিয়েও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। অবশ্য ওই ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া ভাইরাস ঠেকাতে নারিকেল গাছের গোড়ায় পানি ঢালা, একযোগে আজান দেওয়া ও বিভিন্ন তৈজসপত্রে সেবনের অবৈজ্ঞানিক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা নিয়েও জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে কোনো কোনো মহল।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব প্রতিরোধে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সারা দেশেই কাজ করছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। পাশাপাশি যেকোনো মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি গুজব না ছড়ানোর জন্য প্রত্যেক জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। প্রচারপত্র বিতরণের কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। যেসব জেলায় সিভিয়ার গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেসব এলাকার প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অনলাইনকে সমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এখানে সব ধরনের গুজব ঠেকানো কঠিন। কারণ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্নজন নানা ধরনের গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ধর্মীয় পরিচয়েও অনেকে এসব কাজে যুক্ত হয়েছেন। সার্বিক বিবেচনায় এখন আমরা কঠিন সময় পার করছি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ও নাগরিকদের সুরক্ষার কাজে পুলিশের অধিকাংশ সদস্য মাঠে সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশাল জগৎ মনিটরিং সহজ নয়। তদুপরি, আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মানুষকেও সচেতন করছি গুজবে কান না দিতে। গুজব ছড়ানো লিংক ও অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিয়মিত বিটিআরসিকে পাঠানো হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের আরেক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য মাঠে রয়েছেনÑএটি যেমন সত্য, তেমনি অনেক কর্মকর্তা ও সদস্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। অনেকেই বাসায় রয়েছেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না। এসব কারণে অনলাইন নজরদারি কর্মকাণ্ড শিথিল হয়ে পড়েছে। গৃজব সৃষ্টিকারী লোকজন শনাক্ত হলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। এসব কারণে গুজব সৃষ্টিকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের উপ-কমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস নিয়ে নানামুখী গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। এসব প্রতিরোধে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গুজব সৃষ্টিকারীদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করে তোলা হচ্ছে।
