সাতক্ষীরায় সাকিব আল হাসান অ্যাগ্রোতে বকেয়া বেতনের দাবিতে লকডাউনের মধ্যে শ্রমিকদের পথে নেমে আসার ঘটনা নিয়ে বেশ হই চই হলো সেদিন। কিন্তু শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের পেছনে ষড়যন্ত্র দেখছেন সাকিব আল হাসান নিজে।
সাকিব এখন আছেন আমেরিকায়। গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে দেখেছেন তার কাঁকড়া ব্যবসার শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর। এ বিষয়ে ফেইসবুক পেইজে এক দীর্ঘ বিবৃতি দিয়েছেন সাকিব, ‘আপনারা সবাই জানেন, এ বছরের শুরু থেকে আমি আমেরিকায় অবস্থান করছি আমার পরিবারের সঙ্গে, পরিবারের নতুন অতিথির আগমনের অপেক্ষায়।’ সাকিব লিখেছেন, ‘এই সময়ের মধ্যে এগ্রো ফার্মের বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা আমার জানা ছিল না এবং শ্রমিক অসন্তোষের ব্যাপারটি আমি মিডিয়ার মাধ্যমেই জানতে পারি। অন্যান্য মালিকরা এক্ষেত্রে আমাকে বিগত কয়েক মাসের সব তথ্য যথাযথভাবে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু তারা আমাকে অবহিত করেছে, কিছু সংখ্যক কর্মচারী যারা কর্মরত ছিল তাদের বেতন আগামী ৩০ এপ্রিল, ২০২০ তারিখের মধ্যেই দিয়ে দেওয়া হবে।’
সাকিব ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘উল্লেখযোগ্য যে, জানুয়ারির শেষেই প্রায় সব কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এপ্রিলের ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কর্মচারীরা হঠাৎ রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় ধারণা করা যায়, কারও গোপন ও কুপ্ররোচনাতেই এমনটি হয়েছে।’
সাকিব আরও বলছেন, ‘যদিও এগ্রো ফার্মের সঙ্গে আমার নাম সরাসরি যুক্ত, আমার পেশাগত ব্যস্ততার কারণে আমার অন্য কোম্পানিগুলোর মতো এই কোম্পানিটিও অন্যান্য মালিক/অংশীদারদের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে থাকে।’ তবে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘যখনই আমি বুঝতে পারি যে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তখনই আমি কোম্পানি এবং বাকি অংশীদারদের সাহায্য ছাড়াই আমার নিজের তহবিল থেকে তাৎক্ষণিক বকেয়া বেতন পরিশোধ করি। আমি বিশ্বাস করি এটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার এবং এটা নিজেদের মধ্যেই রাখা উচিত ছিল। কিন্তু আমি বিস্মিত হয়েছি, কর্মচারীরা মাসের শেষে বেতন নিতে সম্মতি জানিয়েও তারা আন্দোলনে অংশ নিল!’
৩ বছর ধরে যে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে আসছেন তাদের কেন বঞ্চিত করবেন সাকিব? লোকে এমনটা ভাবছে ভেবে বিস্মিত সাকিব বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, মিডিয়া ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই আংশিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, ‘সত্য অনুসন্ধান করে সঠিক তথ্য মানুষকে জানানো মিডিয়ার বড় দায়িত্ব। তা না হলে অযথাই আমার মতো অনেক মানুষই এধরনের খবরের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
