পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিরুপায় মানুষ

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ০৪:১৭ এএম

করোনা শনাক্তে পরীক্ষা নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। এখনো আগের মতোই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) হটলাইনে ফোন করে নমুনা সংগ্রহ করাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আসার কথা বলে দুই-তিন দিন তো বটেই, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সপ্তাহখানেকও পার হয়ে যাচ্ছে। আবার নমুনা সংগ্রহের পর সে রিপোর্ট পেতে তিন-চার দিন, কখনো পাঁচ দিনেরও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে ফল পেতে। এমনকি সকালে ‘নেগেটিভ’ বলে সন্ধ্যায় সেই ফলই ‘পজিটিভ’ বলা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে করোনা নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় থাকা মানুষ এবার নিজেরাই ছুটছেন করোনা পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই করোনা আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত হতে ধরনা দিচ্ছেন এক প্রতিষ্ঠান থেকে আরেক প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু সেই একই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে এখানেও। চাইলেই যে কেউ করোনা পরীক্ষা করাতে পারছেন না। কোনো প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়েও ‘আউট পেশেন্ট’দের পরীক্ষা করছে না। কোনো প্রতিষ্ঠান ‘রোগ নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে ‘ট্রায়াগ সেন্টার’ বা ‘ফিভার সেন্টার’ থেকে। কোথাও সীমিত পরীক্ষার কারণে ফিরে আসতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর। এভাবে প্রতিদিনই করোনার জন্য মানুষকে ছুটতে হচ্ছে কেন্দ্রগুলোর দ্বারে দ্বারে। নিজের মধ্যে করোনার সংক্রমণ রয়েছে কি না, তা জানতে না পেরে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

অথচ গত দুই সপ্তাহে দেশে করোনা পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ এবং নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল সারা দেশে মোট ১৯টি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা হয়েছে ২ হাজার ৮৭৯টি। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হয়েছে ১ হাজার ৯৩২টি ও ঢাকার বাইরে ৯টি প্রতিষ্ঠানে ৯৪৭টি নমুনা। সেদিন দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৯২ ও মারা গেছেন ১০ জন। তখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৬২ জন। দুই সপ্তাহ পর এখন পরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৩টি। এর মধ্যে ঢাকায় বেড়েছে সাতটি, অর্থাৎ এখন ১৭টি এবং ঢাকার বাইরে বেড়েছে সাতটি, অর্থাৎ এখন ১৬টি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার ১৭টি প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৪৮৯টি এবং ঢাকার বাইরে ১৬টি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৮৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এছাড়া গত এক সপ্তাহে এই প্রথমবারের মতো রাজধানীতে তিনটি (এভারকেয়ার হাসপাতাল বা সাবেক অ্যাপোলো, স্কয়ার হাসপাতাল ও ইউনাইটেড হাসপাতাল) এবং ঢাকার বাইরে নারায়ণগঞ্জে (রূপগঞ্জের ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা ও পরীক্ষা চালু হয়েছে।

তারপরও করোনা পরীক্ষা নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ কাটছে না কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের কর্মকর্তা এবং সরকারি রোগতত্ত্ববিদরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইইডিসিআর দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। তারা শুরু থেকেই সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং সব ঠিক আছে বলে বক্তব্য দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন প্রাদুর্ভাব যখন বাড়ছে, তখন তারা বলছে তাদের কাজ সার্ভিল্যান্সের, নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ভাইরোলজিস্ট দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইইডিসিআর শুরু থেকেই পরীক্ষার ব্যাপারে অনীহা দেখিয়ে আসছে। সে কারণে তারা টেকনোলজিস্টদের প্রশিক্ষণ দেয়নি। ভবিষ্যতে করোনা কী রূপ নিতে পারে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। সে কারণে তারা টেকনোলজিস্ট ও ল্যাবরেটরির ব্যাপারে কোনো প্রস্তুতি নেয়নি। ফলে এখন পরীক্ষা নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ভাইরোলজিস্ট আরও বলেন, যে পরিমাণ পরীক্ষা এখন প্রয়োজন, দেশে যে ল্যাবগুলো চালু রয়েছে, সেগুলোর এত সক্ষমতা নেই। বিশেষ করে নমুনা সংগ্রহের জন্য টেকনোলজিস্টের সংখ্যা খুবই কম। গত ১২ বছর এ পদে কোনো নিয়োগ নেই। সরকারি চাকরির বাইরে যেসব টেকনোলজিস্ট রয়েছেন, তাদেরও কাজে লাগানো হচ্ছে না। যারা চাকরি করছেন, তাদেরও বয়স হয়েছে। আমরা খুবই অমানবিকভাবে তাদের দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করাচ্ছি। মূলত নমুনা সংগ্রহের জন্য টেকনোলজিস্ট না থাকায় আমরা পরীক্ষার কেন্দ্র ও সংখ্যা বাড়াতে পারছি না।

অন্য এক সরকারি মেডিকেল কলেজের এক ভাইরোলজিস্ট বলেন, আইইডিসিআর তাদের ল্যাবে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ নমুনা পরীক্ষা করতে পারে। সেখানে তারা তিন হাজার মানুষের নাম লেখালে পরীক্ষা করছে একশজনের। এখন তাদের উচিত নিজেদের ল্যাবে পরীক্ষা বাড়ানো। এছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পিসিআর মেশিন আছে। সেখানে বায়োসেফটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো উচিত। এছাড়া ঢাকায় যেসব ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে, সেখানে টেকনোলজিস্ট সংখ্যা বাড়িয়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা বাড়ানো যায়।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে এবং আক্রান্ত বাড়ছে, তাতে সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এমনিতেই মে মাসটা পিকের সময়। তাই এখন পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে। অন্তত প্রতিদিন ১০ হাজার পরীক্ষা করাতে পারলে ভালো হয়। আইইডিসিআর বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যেটুকু নমুনা সংগ্রহ করে করুক। যারা পরীক্ষা করাতে চায়, তাদের জন্য সেন্টার বাড়াতে হবে। নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করতে হবে। পরীক্ষার ফল যাতে অল্প সময়ে পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে ল্যাবরেটরিতে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষা নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী করছে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগের মতোই হটলাইনে ফোন করলে আমরা নমুনা সংগ্রহ করছি। এছাড়া নমুনা সংগ্রহের জন্য বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। আরও নতুন কিছু প্রতিষ্ঠানে শিগগির পরীক্ষা শুরু হবে। আমরা বলেছি বেসরকারি কোনো হাসপাতাল করোনা পরীক্ষা ও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আবেদন করলে ও আমাদের শর্ত মানলে, আমরা বিবেচনা করব।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল ও মহানগর হাসপাতালসহ রাজধানীর বেশকিছু স্থানে নমুনা সংগ্রহ বুথ থাকার কথা বলা হলেও এ কর্মকর্তা এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। ফলে  নমুনা পরীক্ষা কোথায় করানো হবে তা এখনো জানেন না অধিকাংশ মানুষ।

এদিকে করোনা পরীক্ষা করাতে রাজধানীর মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকার ঢাকার ভেতর যে ১৭টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করছে, তার মধ্যে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানে সাধারণের করোনা পরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠান হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও মুগদা জেনারেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এর বাইরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড হাসপাতাল) ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ করোনা পরীক্ষার ঘোষণা দিলেও সেখানে শুধু চিকিৎসাধীন রোগী, প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। জরুরি বিভাগ বা বহির্বিভাগ কিংবা সাধারণ মানুষের কেউ পরীক্ষা করাতে পারছেন না। এর বাইরে যে ১৩টি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেখানে আইইডিসিআর নমুনা পাঠাচ্ছে এবং অন্য সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের নমুনা পাঠানো হচ্ছে। এর বাইরে অন্য কারও সেখানে পরীক্ষা করার সুযোগ নেই।

এর মধ্যে ঘোষণা দিলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শেষ পর্যন্ত বাইরের কারও পরীক্ষা করছে না। গতকাল রবিবার পরীক্ষা করাতে গিয়ে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে মানুষকে। করোনা টেস্টের টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টেস্ট করাতে পারেননি অর্ধশতাধিক মানুষ। তারা সবাই এসেছিলেন কোনো না কোনো উপসর্গ নিয়ে নিজেদের শরীরে করোনার সংক্রমণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে।

এর আগে গত শনিবার হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম নাসির উদ্দিন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, করোনা সাসপেক্টেড ও আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি ও চিকিৎসা দেওয়া হবে বার্ন ইউনিটে। করোনা আক্রান্ত রোগী একই সঙ্গে নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিকস, শিশু রোগসহ প্রয়োজনীয় সব রোগেরই চিকিৎসাই পাবে। করোনা আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরও সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হবে এখানে।

গত শনিবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. এএফএম আরিফুল ইসলাম নবীন মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনা আক্রান্তের সামান্য লক্ষণ রয়েছে যাদের, তাদের পরীক্ষা করা হবে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে। এছাড়া গুরুতর রোগীদের ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেওয়া হবে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা টানা সাত দিন ডিউটি করবেন। এরপর ১৪ দিন আবাসিক হোটেলে থাকবেন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ না হলে তারা আবার সাত দিন চিকিৎসা দেবেন।’

সে অনুযায়ী গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পরীক্ষা করাতে আসেন এ হাসপাতালে। সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল ৭টা থেকেই করোনার নানা উপসর্গ নিয়ে মানুষ আসতে থাকেন। এদের মধ্যে গুরুতর কাশি নিয়েও অনেকে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে করোনার টেস্টের জন্য প্রস্তুতিও নেয়। করোনার রোগীরা বহির্বিভাগ থেকে ১০ টাকার টিকিট কেটে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে এসে নির্ধারিত বুথে প্রাথমিক লক্ষণ বলার পর সেখান থেকে সম্ভাব্য আক্রান্ত রোগীকে টেস্টের জন্য দেওয়া হয় কভিড-১৯ সিআরএফ নামের একটি ফরম। এরপর লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অন্তত ৫০ জন রোগী। এ সময় মানা হয়নি কোনো সামাজিক দূরত্ব। শেষ পর্যন্ত আনসার সদস্যদের মাধ্যমে বেলা ১১টার দিকে ঘোষণা দেওয়া হয় এখানে টেস্ট করা হবে না। শুধু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা জানান, ১১টার দিকে তাদের জানানো হয়েছে এখানে কোনো টেস্ট করা হবে না। এ জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. এএফএম আরিফুল ইসলাম নবীনকে জানালে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি বাসায় আছি, টেস্ট তো করার কথা। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি কী সমস্যা।’ তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এখানে টেস্ট কেন করতে আসবে। এখানে তো আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হবে। টিকিট কে দিচ্ছে। এখানে টেস্ট করা হবে কে বলেছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে বাইরের লোকজনের পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। আমরা দুই শিফটে এক মেশিনে ৯৪টা করে প্রতিদিন ১৮৮টা নমুনা পরীক্ষা করছি। এর মধ্যে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং রোগীদের চিকিৎসা ও নমুনা সংগ্রহে নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরীক্ষা করি। অল-লিমিটেড লোকজনের পরীক্ষা করাতে গেলে ব্যাকলগে পড়ব। কিছুই হবে না। কারণ টেকনোলজিস্টের সংখ্যা খুবই কম।

তবে মুগদা মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালে বাইরের লোকজনের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শাহ গোলাম নবী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখানে যে কেউ উপসর্গ নিয়ে এলে প্রথমে তাকে ট্রায়াগ রুমে পরীক্ষা করা হয় ও ফরম দেওয়া হয়। গলাব্যথা, সর্দি-জ্বর ও কাশি থাকলে আমরা তার পরীক্ষা করি। দুজন করে চারজন টেকনোলজিস্ট দুই শিফটে এখন রোজার সময় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নমুনা নেন। একটা মেশিন। দুই শিফটে ৯৪টা করে প্রতিদিন ১৮৮ জনের পরীক্ষা করতে পারি। বাইরের লোকজনের পাশাপাশি আমাদের প্রতিদিন গড়ে ৭০ জন রোগী এবং ৪৪ জন চিকিৎসক, ৬৯ জন নার্স ও ৬০-৭০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে সাত দিন পরপর পরীক্ষা করতে হয়। আমরা চেষ্টা করি সময়মতো রেজাল্ট দিতে। মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সবাই মিলে সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।

তবে মিটফোর্ড হাসপাতালেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো বাইরের লোকজনের পরীক্ষার তেমন সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, টেকনোলজিস্ট কম থাকায় এবং চিকিৎসাধীন রোগীর চাপ বেশি থাকায় বাইরের যে কারোর চাইলেই পরীক্ষা করাতে পারছি না।

এ ব্যাপারে হাসপাতাল পরিচালক ডা. রশিদুন নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফিভার সেন্টার রয়েছে। সেখানে রোগী এলে চিকিৎসকরা প্রথমে পরীক্ষা করবেন। সন্দেহ হলে তার নমুনা নেওয়া হবে। এখন প্রতিদিন ১৩০-১৪০টা নমুনা নিচ্ছি। ধীরে ধীরে সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত