নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যত দিন বন্ধ থাকবে তত দিন শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সংলগ্ন সরদার পাড়া এলাকার আশা ছাত্রাবাসের মেস মালিক আলহাজ্ব আমজাদ হুসেন।
এ ছাত্রাবাসে মোট ৬০ শিক্ষার্থী থাকেন। তারা বেরোবিতে পড়ালেখা করেন।
আমজাদ হুসেন মেস ব্যাবসার পাশাপাশি কৃষিকাজ করেন। তার ছয় ছেলেমেয়েসহ আট সদস্যের পরিবারের খরচ মেটান মেস ভাড়া থেকে।
আমজাদ হুসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেস ভাড়া থেকে তিনি প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা ভাড়া পান।কিন্তু করোনার কারণে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শিক্ষার্থীরা মেসে নেই। যাদের অনেকে টিউশনি করে পড়ালেখার খরচ যোগায়। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের পরিবারের আর্থিক সমস্যার কথা জানান।তিনি বলেন, চলমান মহামারিতে প্রত্যেকের উচিত নিজেদের জায়গা থেকে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। চলমান সংকটে মেস ভাড়া চাইলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হবে। যেহেতু তাদের ওপর নির্ভর করে মেস চলে, তাই মালিকদের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী মেস ভাড়া আংশিক কিংবা সামান্য হলেও মওকুফ করা।
আশা ছাত্রাবাসের বাসিন্দা এবং বেরোবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আলীরাজ বলেন, এ দুঃসময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা আমাদের সারাজীবন মনে থাকবে। আশা করি, তার মতো অন্যসব মেস মালিকও ভাড়া মওকুফ করবে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু দিন ধরে বেরোবির শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়া মওকুফের দাবি জানিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা রংপুর জেলা প্রশাসক বরাবর মেস ভাড়া মওকুফে যথাযথ প্রদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠি লিখেছেন।
