গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। গত ২৫ এপ্রিল তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার আগে জেলায় ৩২৩ জন আক্রান্ত হলেও কোনো পোশাকশ্রমিক ছিলেন না। তবে এরপর থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬১২ জন শনাক্ত হয়েছেন। নতুন শনাক্ত ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনই পোশাকশ্রমিক। এর বাইরে নিজ গ্রাম থেকে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন কারখানায় যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ১১ এপ্রিল গাজীপুর জেলা লকডাউন করা হলেও এখন এর লেশমাত্র নেই। এরই মধ্যে জেলায় চালু হয়েছে প্রায় দেড় হাজার পোশাক কারখানা। পোশাকশ্রমিক থেকে বাজার, রাস্তাঘাট কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। এতে দিন দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে।
গাজীপুরের পোশাকশ্রমিক নেতা আশরাফুজ্জামান জানান, কারখানার প্রধান ফটকে কর্র্তৃপক্ষ নানা ব্যবস্থা রাখলেও ভেতরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। আবার কাজে যোগদান ও ছুটির সময়ে গাদাগাদি করে চলাফেরা করছে। এতে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন পোশাক কারখানার ২৭ শ্রমিক এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের কয়েকজন হাসপাতালে ও অন্যরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জেলা সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ‘হঠাৎ করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পোশাক কারখানার জন্য কি না আরও কয়েক দিন গেলে বোঝা যাবে। পোশাক কারখানার সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ, শিল্পপুলিশ ও প্রশাসনের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা গার্মেন্টসগুলোকে কোনো সমস্যা মনে হলে জানানোর জন্য চিঠি দিয়েছি।’
গাজীপুর শিল্পপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, ‘কারখানা কর্র্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। এরপরও কিছু কিছু কারখানায় সেটি শতভাগ মানা হচ্ছে না। আমরা নিয়মিত কারখানা তদারকি করছি। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে সংক্রমণঝুঁকি বেড়ে গেছে।’
